Dhaka Mail Logo

জাতীয়

গ্যাস সংকটে সিএনজিচালকদের আয় তলানীতে, পাম্পে বিশৃঙ্খলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

রাজধানী ঢাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। পাম্পে গ্যাসের চাপ না থাকায় যতটুকু মিলছে, তা দিয়ে দিনের অর্ধেক সময়ও গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। 

দিনের বেলায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় সিএনজিচালকদের আয় তলানীতে ঠেকেছে। অন্যদিকে পাম্পে তৈরি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কয়েকটি পাম্প সরেজমিনে ঘুরে এবং চালক ও পাম্প কর্মীদের সঙ্গে কথার মাধ্যমে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, সকাল থেকেই বন্ধ ছিল অধিকাংশ পাম্প। কোনো কোনো পাম্পে গ্যাসের অপেক্ষায় শত শত গাড়ির সারি দেখা গেলেও পাম্প কর্মীদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একটি পাম্পের ম্যানেজার হান্নান মিয়া গ্যাস না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বন্ধ হইছে, একটানা বন্ধ। গ্যাসের চাপ নাই, লাইনে গ্যাস নাই।’

আজ সারাদিনে একটি গাড়িকেও গ্যাস দিতে পারেননি জানিয়ে এই ম্যানেজার বলেন, ‘কাউরে গ্যাস দিতে পারি নাই। গ্যাস থাকলে না খুলব, গ্যাস না আইলে কেমনে খুলবো? গ্যাস তো আসার কথা না, এলে তো দিয়ে দিতাম। সারাদিন আর খোলা সম্ভব না।’

তিনি জানান, শুধু তাদের পাম্প নয়, আশপাশের কোনো পাম্পেই বর্তমানে গ্যাস নেই।

2

দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। মুগদা পাম্পে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পাওয়া এক সিএনজি চালক জানান, তার সিলিন্ডারে মাত্র ১৮২ টাকার গ্যাস ঢুকেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রেসার কম। মানে যতটুকু প্রেসার থাকে অতটুকুই ঢোকে। তার বেশি তো ঢোকে না। আবার সময় লাগে বেশি, গ্যাস ঢোকে কম।’

এই সামান্য গ্যাসে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পরই তা শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি। গ্যাস সংকটে ব্যবসার করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি ব্যবসা একদমই খারাপ। জমা তো কম নেয় না মালিকেরা। জমা ১২০০, সেইটাই নেয়। এখন আমাগো যে সমস্যা এটা তো হেরা দেখে না।’

তিনি আরও জানান, সকাল আটটা-সাড়ে আটটার দিকে গ্যাস নেওয়ার জন্য প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ গাড়ির দীর্ঘ সিরিয়াল তৈরি হয়।

গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ সাধারণ গাড়িচালকরা। ফারুক নামের এক গাড়িচালক জানান, তিনি সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যাসের দেখা পাননি।

টানা আট দিন ধরে চলা এই সংকটের কথা উল্লেখ করে ফারুক বলেন, ‘গত শনিবার থেকে আজকে আট দিন হয়ে গেল, দিনের বেলা কোনো গ্যাস নাই। দিনের বেলা ভুলেও ১০০ টাকার একটু গ্যাসও বিক্রি করা হয় নাই। এমন একটা পরিস্থিতি হইছে আমরা এহনে নিজেরা নিজেরা মারামারি লাইগা যাইতেছি গা। কার আগে কে নিবে?’

যানজট এবং গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন খাতে লোকসানের একটি হিসাবও তুলে ধরেন ফারুক। তিনি বলেন, ‘আমি যদি মাওয়া রোডে উঠি, আমার পার কিলোমিটার পড়ে যায় ১ টাকা ৯০ পয়সা গ্যাসে। আর ঢাকা শহর যখন আমি গাড়ি চালাই, আমার পার কিলো পড়ে যায় ৯ টাকা ২০ পয়সা। তাইলে আপনে ঘাটতিটা ফিলাপ করবেন কোনো জায়গা দিয়া?’

দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে চালকরা যেকোনো সময় বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। ফারুক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তিন হাজারেরও বেশি চালক মিলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

গ্যাসের এমন তীব্র সংকট ও ভোগান্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী চালক ও পাম্প মালিকরা।

আরএনবি/এএইচ