জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
‘আমার গাড়ির দৈনিক জমা ১১০০ টাকা। এক টাকাও কম নেন না মালিক। কিন্তু গ্যাসের অভাবে গাড়িই চালাতে পারছি না। জমা টাকা দেওয়ার পর ঘরে বাজার নেব কী দিয়ে সেই চিন্তায় আছি।’
রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সিএনজিচালক এভাবেই তার সমস্যার কথা বলছিলেন ঢাকা মেইলের কাছে।
চট্টগ্রামের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে। গ্যাস সংকটে মহানগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনেই এখন বন্ধ। যেসব স্টেশনে চালু আছে সেগুলোতেও গ্যাসের চাপ খুবই সামান্য। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ফলে সিএনজিচালিত যানবাহন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, পলয়েল জি-গ্যাস স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। স্টেশনটির চারপাশ ব্যারিকেট দিয়ে আবদ্ধ করে রাখা।
কথা হলে পলয়েল জি-গ্যাস স্টেশনের ক্যাশিয়ার জাহিদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় চার দিন ধরে সিএনজি স্টেশন বন্ধ আছে। গ্যাসের সমস্যা সাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’
তবে বিকেলে মোচাক-রামপুরা রোডস্থ (ডিআইটি রোড) সিটি ওভারসিজ সিএনজি লিমিটেড স্টেশনটি খোলা থাকতে দেখা গেছে। যদিও স্টেশনটি ঘিরে সিএনজিচালিত যানবাহনের ছিল কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন।
সিটি ওভারসিজ সিএনজি স্টেশনের ক্যাশিয়ার আবুল কালাম আজাদ ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা গ্যাস দিচ্ছি। কিন্তু চাপ খুবই কম। এ কারণে গ্রাহকদের পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
গ্যাস সংকটে বন্ধ তেঁজগাও ও মহাখালীর সিএনজি স্টেশন ঘুরে এসে সিটি ওভারসিজ সিএনজি স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়েছেন সিএনজিচালক জিয়াউদ্দিন। দেড় ঘণ্টার বেশি দাঁড়িয়ে লাইনের অর্ধেক পৌঁছান তিনি।
আক্ষেপ করে জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আধ ঘণ্টার মতো আর সময় আছে। ৬টার সময় বন্ধ হয়ে যাবে। এখন গ্যাস না পাইলে আবার রাত ৯টা পর্যন্ত লাইনে বসে থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত রাতেও ৪ ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পাইনি। দুপুরেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়। পরে তেঁজগাও ও মহাখালীতে গিয়ে সিএনজি স্টেশন বন্ধ পাই। এরপর এখানে সিরিয়াল দেই। আর কোথাও যাওয়ারও অবস্থা নাই। গাড়ি চলে না। ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছি।’
সিএনজি চালক ইমরান হোসেন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু এখনো গ্যাস পাননি। তিনি বলেন, ‘গাড়িতে একটুও গ্যাস নাই। বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গ্যাস নিয়া আজ আর গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না। আবার বন্ধ হলে বাসায় যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’
একই স্টেশনে লাইন ধরেছেন সিএনজি চালক ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘সকালে তিন ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ১৭০ টাকার গ্যাস পাই। কয়েক ঘণ্টা চলেছি। এখন আবার লাইনে। দিনটাই চলে গেল সিএনজি স্টেশনে। এমন হলে আর গাড়ি চালানো যাবে না।’
আব্দুল হক নামের এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, ‘গ্যাস দিচ্ছে। তবে চাপ খুবই কম। ৩০০ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছি। এই গ্যাস দিয়া কী হবে? আবার গ্যাস নিতে কয়েক ঘণ্টা বসে থাকতে হবে।’
গত মার্চ–এপ্রিলজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি ছিল। সেই চিত্রই এখন সিএনজি স্টেশনে দেখা যাচ্ছে।
ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিলেও এবার সিএনজি স্টেশনে সংকট তৈরি হয়েছে এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে। এই সংকট কবে যাবে, সেই প্রশ্নই এখন গ্রাহকদের মনে।
এএম/এএইচ