জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ এএম
জুলাই সনদে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে জনগণের দেওয়া স্পষ্ট রায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত গণভোটে বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই গণরায় রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। তাই জুলাই সনদে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।
বিবৃতিদাতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যা উদ্বেগজনক। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাম্য নয়। উভয় পক্ষের বক্তব্যে যৌক্তিকতা থাকলেও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বোপরি জনগণের রায়কেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
তারা আরও বলেন, সংসদীয় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সাংবিধানিক রূপান্তরের একটি কার্যকর পথ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতি সংস্কারের ধারাকে এগিয়ে নিতে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।
যৌথ বিবৃতিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—জুলাই সনদ অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে জনগণের দেওয়া রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়াকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া।
বিবৃতিতে দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, ছাত্র-জনতা এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি গণভোটের রায়, গণসার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, কবি ও দার্শনিক মুসা আল হাফিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফারুকী, ব্যারিস্টার মুস্তফা শাকেরুল্লাহ, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আ ন ম আয়াশ, জুলাই সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আবু প্রান্তর, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের আহ্বায়ক স্মৃতি পাটোয়ারী, আহত জুলাই যোদ্ধা নুরা জেরিন ও সালমান শরীফসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের মোট ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
টিএই/এএস