নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন স্তরের ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া পণ্যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হবে।
এর আওতায় দেশভেদে শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আগে কার্যকর থাকা সাময়িক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হলো।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে এটি বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন (এমএফএন) শুল্কহারের অতিরিক্ত হিসেবে কার্যকর হবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৭টি দেশ সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ ট্যারিফ স্তরে রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ও অন্যান্য রফতানি বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় থাকবে।
নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী কয়েকটি তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশ— চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা বাড়তি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশসহ চারটি দেশের জন্য তিন বছর মেয়াদি ট্যারিফ-রেট কোটা (টিআরকিউ) চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও টেক্সটাইল উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের ওপর সেকশন ৩০১ এর শুল্ক ছাড় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকার আশা করছে, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রফতানি খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং রফতানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখা, রফতানি খাতের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং টেকসই বাণিজ্য সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
এফএ