Dhaka Mail Logo

জাতীয়

বঙ্গভবন ছেড়ে কোথায় উঠছেন সাহাবুদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৪টায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।  

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তার ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নীতিগতভাবে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মনোনীত কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

জানা যায়, পদত্যাগের পর গুলশানের নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। এরপর স্বাস্থ্যগত কারণে চিকিৎসা ও বিশ্রামের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে সরকার কিংবা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। 

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সে হিসাবে তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন ঘটল।

এআরএম