Dhaka Mail Logo

জাতীয়

নিষ্কাশনের খালে আটকে গেল হাজার কোটি টাকার হিসাব

আব্দুল হাকিম

২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

  • ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা
  • আট বছরের প্রকল্পেও পরিকল্পনার দুর্বলতা, অর্থনৈতিক সুফল প্রত্যাশার চেয়ে কম
  • আইএমইডির মূল্যায়নে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়ক্ষেপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অন্যতম জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি)। বর্ষা এলেই এ অঞ্চলের লাখো মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোথাও কোথাও দিনের পর দিন জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ সমস্যা নিরসনে ২০১৬ সালে নেওয়া হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প। চার বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি শেষ হতে সময় লেগেছে আট বছর।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১১৭ শতাংশ। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণে অসামঞ্জস্য, বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় প্রকল্পটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন—দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল দিতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইএমইডির মূল্যায়নে প্রকল্পের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি একাধিক সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ঘাটতি, ভূমি অধিগ্রহণে পরিকল্পনাগত অসামঞ্জস্য, রক্ষণাবেক্ষণের ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতার অবনতি। এসব বিষয়কে প্রকল্পটির প্রধান দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

ডিএনডি এলাকার ইতিহাস কয়েক দশকের। ষাটের দশকে কৃষিজমি রক্ষা ও সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে এ এলাকায় বাঁধ ও নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন, খাল দখল এবং অপরিকল্পিত বসতি গড়ে ওঠায় সেই ব্যবস্থা কার্যকারিতা হারাতে থাকে। কৃষিজমির জায়গা দখল করে গড়ে ওঠে আবাসিক এলাকা ও শিল্পকারখানা। বর্জ্য ফেলা ও দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ে খালগুলো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী ও নারায়ণগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৫৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু চার বছরের প্রকল্প শেষ হতে লেগেছে আট বছর। শুধু সময়ই বাড়েনি, ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় ১১৭ শতাংশ। সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় এক হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যদিও প্রকৃত ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মূল পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ৬৫৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল প্রকল্পের শুরুতেই বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব। ২০১০ সালের জরিপের ভিত্তিতে প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা ও ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, এলাকার বাস্তবতা অনেক বদলে গেছে। খাল দখল হয়েছে, বসতি বেড়েছে, শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে এবং ইউটিলিটি অবকাঠামোর অবস্থানও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে নতুন করে বিস্তারিত নকশা করতে হয়েছে। এতে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছে। অনেক জায়গায় খালের জায়গা উদ্ধার না করে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আবার দখলমুক্ত খাল ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে ও সীমানা পিলার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো মূল পরিকল্পনায় ছিল না। পরে এসব কাজ যুক্ত হওয়ায় ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

ভূমি অধিগ্রহণেও দেখা গেছে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য। মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ১০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। পরে সংশোধিত প্রস্তাবে তা কমিয়ে ছয় হেক্টর করা হয়। কিন্তু বাস্তবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৯ হেক্টর জমি। আইএমইডির ভাষ্য, পরিকল্পনা, সংশোধিত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মধ্যে এই পার্থক্য প্রকল্প প্রস্তুতির দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি বিশ্লেষণেও পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক চিত্র। প্রথম অর্থবছরে আর্থিক অগ্রগতি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। দ্বিতীয় বছরেও অগ্রগতি ছিল সীমিত। অথচ শেষ অর্থবছরে এসে মোট ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় করা হয়েছে। আইএমইডি বলছে, কোনো প্রকল্পের এত বড় অংশের অর্থ শেষ বছরে ব্যয় হওয়া কার্যকর পরিকল্পনার পরিচায়ক নয়। বরং এটি বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে শিমরাইল ও আদমজীনগরে দুটি বড় পাম্প স্টেশন, ফতুল্লা, পাগলা ও শ্যামপুরে একাধিক পাম্পিং প্ল্যান্ট, প্রায় ৯৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার সীমানা পিলার, নতুন সেতু, কালভার্ট এবং অন্যান্য নিষ্কাশন অবকাঠামো। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অবকাঠামো নির্মাণের ফলে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা কমেছে এবং পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের মতামতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। আগে যেখানে ভারী বৃষ্টির পর ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা, এমনকি এক-দুই দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকত, এখন অনেক এলাকায় এক থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি কমেছে, যান চলাচল সহজ হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতিও বেড়েছে।

তবে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো অর্থনৈতিক কার্যকারিতা। প্রকল্প সমাপনী প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (ইআইআরআর) ২২ দশমিক ৭৯ শতাংশ দেখানো হলেও আইএমইডির পুনর্মূল্যায়নে তা নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশে। একইভাবে ব্যয়-সুবিধা অনুপাত (বিসিআর) ১ দশমিক ৫৫ থেকে কমে হয়েছে ০ দশমিক ৮২। অর্থাৎ ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্পটি প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান অবস্থায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে সন্তোষজনক নয়।

মূল্যায়নকারীরা বলছেন, এর একটি বড় কারণ হলো প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বৃদ্ধি। সময় বাড়লে নির্মাণ ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে আরও বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি প্রকল্পের সুফল গণনায় যেসব অনুমান করা হয়েছিল, বাস্তবে তার সবগুলো অর্জিত হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের সুফল টেকসই রাখতে হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে পাম্প স্টেশন পরিচালনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। পাম্পগুলো নিয়মিত চালানো, ট্র্যাশ র্যাক পরিষ্কার করা, পলি অপসারণ এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কয়েক বছরের মধ্যেই আবারও আগের মতো জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

খাল দখল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখনন করা হলেও অনেক স্থানে আবারও গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে খালের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূল্যায়নকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না; নিয়মিত সংরক্ষণ নিশ্চিত না করলে এই বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হলে প্রকল্পের সময় ও ব্যয়—দুটিই কমানো সম্ভব হতো।

আইএমইডি ভবিষ্যতের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক সেন্সরভিত্তিক পানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা, পাম্প স্টেশনগুলোকে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় করা, দক্ষ জনবল নিয়োগ, নিয়মিত ডি-সিলটিং, খাল দখল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বড় অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণের আগে হালনাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাস্তবভিত্তিক ব্যয় প্রাক্কলন, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং ভূমি অধিগ্রহণের সঠিক পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ পরিকল্পনা পর্যায়ের দুর্বলতাই পরবর্তী সময়ে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আইএমইডির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পটি দৃশ্যমান অবকাঠামো তৈরি করলেও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য সতর্কবার্তা। বড় বাজেটের প্রকল্প মানেই সফল প্রকল্প নয়। সফলতা নির্ভর করে সময়মতো বাস্তবায়ন, সঠিক পরিকল্পনা, ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করার ওপর।

ডিএনডি বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকেই এর নকশা ও পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা নিয়ে পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় আজও এর নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। তিনি বলেন, বর্ষা কিংবা মাঝারি বৃষ্টিতেই ডিএনডি এলাকার চারপাশের পানি দ্রুত অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। এর ফলে পুরান ঢাকার ডেমরা থেকে বাড্ডার কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। এমনকি বছরের অন্য সময়েও অনেক স্থানে মানুষকে জলাবদ্ধ পরিবেশে বসবাস করতে হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধু খাল খনন বা পাম্প স্টেশন নির্মাণ করলেই রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য প্রাকৃতিক জলাধার, খাল, নদী ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রকল্পই অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক হলেও প্রকৃত সমস্যা কোথায়, কোন এলাকায় কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোন উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি সুফল মিলবে, সে বিষয়ে স্থানীয় মানুষের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও অনেক প্রকল্প প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য প্রাকৃতিক জলাধার, খাল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে একটি টেকসই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। তিনি জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, কোথায় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি, কোথায় প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণই যথেষ্ট এবং কোন প্রকল্পে সর্বাধিক সুফল মিলবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ প্রকল্পই কেবল সিভিল ও অবকাঠামোগত দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রণয়ন করা হয়, যেখানে জনসম্পৃক্ততা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত মহাপরিকল্পনার দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অগ্রাধিকার নির্ধারণের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের অভাবে অবশিষ্ট জলাধার ও সবুজ এলাকা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নতুন করে যত নিষ্কাশন প্রকল্পই নেওয়া হোক না কেন, সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করা কঠিন হবে। পরিকল্পনার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন না আনলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

এএইচ/এআর