Dhaka Mail Logo

জাতীয়

চার প্রতিষ্ঠানের আট পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআই’র

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের আটটি ভ্যারিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত মানের ব্যত্যয়ের অভিযোগে এসব পণ্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই।

বিএসটিআই জানায়, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেস-এর আমের আচার পরীক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে।

কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর বেলিসিমো (Bellisimo) ব্র্যান্ডের Rotondo Hazelnut Coated Chocolate আইসক্রিমে বাংলাদেশ মানের তুলনায় টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন ও অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিঙ্গা-মাচা এবং ফোমিং মিল্ক ও তুলসী, পাশাপাশি লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পু–তে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ডেকো ফুডস লিমিটেড-এর ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানের তুলনায় ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ কম পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য এসব পণ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থ ও ভোক্তার অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিএসটিআই বদ্ধপরিকর।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারে, সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ, মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের অধিকার। তিনি পণ্য কেনার আগে ক্রেতাদের বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন।’

একই সঙ্গে কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার–সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে দ্রুত বিএসটিআইকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এমআই