মো. মেহেদী হাসান হাসিব
২০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-বিধি সংশোধনে আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদারসহ একাধিক বিষয়ে সংশোধন আনার প্রস্তাব রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, আগামীকাল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি নিয়ে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করে কী কী পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিধিগুলোতে কী ধরনের বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানতে চাইলে সূত্র জানায়, মোটাদাগে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা আগে ছিল না। ঋণখেলাপিদের বিষয়ে বিদ্যমান কয়েকটি আইন পর্যালোচনা করে ঋণখেলাপিদের পাশাপাশি তাঁদের জামিনদারদেরও নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার বিধান আনা হচ্ছে। এ ছাড়া তেমন বড় কোনো পরিবর্তন থাকছে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার কমিশন সভায় আইন-বিধি চূড়ান্ত করা হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রস্তাব, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা এবং ঋণখেলাপির পাশাপাশি ঋণের গ্যারান্টারদেরও অযোগ্য করার বিষয়টি। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের প্রতিনিধি থাকেন। আমরা প্রস্তাব করেছি, সেখানে শুধু বিচার বিভাগের একজন বিচারক থাকবেন।
নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। তবে বন্যাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজনে নির্বাচন পেছানো সম্ভব। তবে লক্ষ্য অক্টোবরেই নির্বাচন আয়োজন।
অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। কিছু ছোটখাটো সংশোধন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হবে। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, আইনে তাঁদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় সরকারি কর্মকর্তারাই প্রশাসক। কাজেই তাঁরা এমনিতেই নির্বাচন করতে পারবেন না। সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে যাঁরা প্রশাসক রয়েছেন, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং নির্বাচন করতে হলে তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে।
পদত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট সময় আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে পদত্যাগ করলে প্রার্থী হওয়া যাবে। আইনে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নির্বাচন উপযোগী হবে।
পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভা এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়।
উপজেলা পরিষদের রোডম্যাপ থেকে জানা যায়, নতুন পাঁচটি উপজেলাসহ দেশে মোট উপজেলা ৫০০টি। কোনো উপজেলাতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব উপজেলাই নির্বাচন উপযোগী।
নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের কোনোটিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব সিটি করপোরেশনই নির্বাচন উপযোগী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।
এমএইচএইচ/এআর