Dhaka Mail Logo

জাতীয়

মিডিয়ার তোষামোদির কারণেই ফ্যাসিবাদ ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল: মাহমুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

মিডিয়ার তোষামোদির কারণেই ফ্যাসিবাদ ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হচ্ছে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে সত্য তুলে ধরা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের অনিয়মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু গণমাধ্যম যদি ক্ষমতাসীনদের প্রশংসা ও তোষামোদির পথে চলে, তখন তা সমাজের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং ‘ফ্যাসিবাদী শাসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, এই লড়াইও তত দিন চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সত্য, ন্যায় ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই লড়াইয়ে সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনগণের কথা তুলে ধরা।’

আমার দেশের সম্পাদক বলেন, ‘গণমাধ্যমের কাজ হচ্ছে প্রশ্ন করা। সাংবাদিকদের অধিকার হচ্ছে ‘টু আস্ক কোশ্চেনস’। এই প্রশ্ন করার অধিকার থেকে সাংবাদিকরা কখনো সরে আসবেন না। ক্ষমতাবানদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় স্বাধীন সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।’

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিকদের স্মরণ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই শহীদরা অল্প বয়সে জীবন উৎসর্গ না করলে দেশের মানুষ স্বাধীনতা ফিরে পেত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের কারণেই অনেক মানুষ নতুনভাবে নিজের দেশে ফিরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।’

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের সব পত্রিকার সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েই এই সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্পাদকদেরও এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে চাওয়া হয়েছে। সম্পাদকদের মধ্যে যে দূরত্ব ও বিভাজন ছিল, তা দূর করে একটি শক্তিশালী পেশাজীবী ঐক্য তৈরি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে সম্পাদকদের নামে একটি এলিট শ্রেণির নিয়ন্ত্রণ দেখা গেছে। এনইসি সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ঢাকার বাইরের সম্পাদকদেরও সমান গুরুত্ব দিতে চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য গণমাধ্যম ও জাতিকে সব সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।’

ফ্যাসিবাদের উত্থানে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মিডিয়ার তোষামোদির কারণেই ফ্যাসিবাদ এতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পেরেছিল। একটি জাতি হিসেবে তোষামোদির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ ক্ষমতার কাছে নতজানু গণমাধ্যম কখনো জনগণের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল তোষামোদির সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে না। সংগঠনটি সত্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করবে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা নয়।’

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক, কবি ও গবেষক আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র মা শামসি আরা জামান এবং মেহেদী হাসানের স্ত্রী ফারহানা পপি প্রমুখ। পরে জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারের হাতে নগদ এক লাখ টাকা এবং ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।

এএইচ/এফএ