Dhaka Mail Logo

জাতীয়

বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদার জন্য কল করতেন তারা 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী শ্যুটার তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীসহ পাঁচজন গ্রেফতারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন ও কমলাপুর এলাকায় পৃথক অভিযানে চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। 

মতিঝিলের গরুর হাটের এক ইজারাদারের দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদার জন্য কল করতেন বাপ্পিরা। শুধু তাই নয় চাঁদা না দিলে নানান হুমকিও দিতেন তারা।   

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি।   

পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে ব্যবসায়ীরা। গত ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। 

এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। সেই ঘটনায় তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা হয়েছে।

এছাড়া গ্রেফতারকৃত তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ ও অন্যান্য সহযোগীকে গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমআইকে/এআরএম