Dhaka Mail Logo

জাতীয়

৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ডিএনসিসির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ‎বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে গুলশানস্থ নগর ভবনে নতুন বাজেট পেশ করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

‎বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, নতুন অর্থবছরের বাজেট ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম ধরা হয়েছে।

‎বাজেট ঘোষণাকালে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, নতুন অর্থবছরের জন্য আমরা একটি বাস্তবমুখী বাজেট করেছি। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ৬৬০ কোটি টাকা। আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৮৫০ কোটি এবং সংশোধিত ছিল ৯৭৩ কোটি টাকা।

‎নতুন রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৫৩১ কোটি টাকা। যেটি আগের অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ৬৩৬ টাকা। এবং সংশোধিত রাজস্ব আয় ছিল ২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা।

‎নতুন অর্থবছরের আবর্তক খাতে সাহায্য মঞ্জুরি ২১৫ কোটি, সরকারি অনুদান (উন্নয়ন সহায়তা) ১৫০ কোটি এবং অন্যান্য আয় ৫ কোটি ধরা হয়েছে।

‎এছাড়া নতুন বাজেটে সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্য পুষ্ট প্রকল্পের আয় ধরা হয়েছে ৯৬৫ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরে ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেট ছিল ৯৭১ কোটি টাকা।

‎রাজস্ব আয়ের খাতগুলোর মধ্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হোল্ডিং কর থেকে। এই খাতে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২১০ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্ব আয়ের ৪৭ শতাংশ।

‎এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে সম্পত্তি হস্তান্তর কর থেকে। এ খাতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭৫০ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্ব আয়ের ৩০ শতাংশ।

‎এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স থেকে ১৬৫ কোটি, সড়ক খনন ফি ১০০ কোটি, বিজ্ঞাপন ৫০ কোটি, গরুর হাট ৭০ কোটি, নগর কর ৬.৫ কোটি, মোবাইল টাওয়ার কর ৭.৫ কোটি, কবরস্থান ও শ্মশানঘাট ১০ কোটি, বাস/ট্রাক টার্মিনাল ৯.৫ কোটি এবং অন্যান্য ১৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে নতুন বাজেটে।

এদিকে নতুন অর্থবছরে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। এবং সংশোধিত বাজেট ছিল ৮৪৩ কোটি টাকা।

‎নতুন বাজেটে নিজস্ব উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে নিজস্ব উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেট ছিল ১ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা।

‎ডিএনসিসির বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উন্নয়ন ব্যয়ের সবচেয়ে বেশি ধরা হয়েছে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো খাতে। এ খাতে বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের ৪৫ শতাংশের বেশি।

এছাড়াও নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১৪৯ কোটি, মশক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যে ৬৩ কোটি, সড়ক বিদ্যুতায়নে ৫১ কোটি, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ উন্নয়নে ২৩ কোটি, খেলার মাঠ ও পার্ক উন্নয়নে ৯ কোটি, খাল ও লেক উন্নয়নে ১০ কোটি, ধর্মীয় স্থাপনায় ১৭.৫ কোটি ও অন্যান্য ২৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট কমানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এ বছর বাজেট কমানোর কারণ হলো গত বাজেট ছিল উচ্চবিলাসী ও পরিকল্পনাবিহীন অবাস্তবমুখী বাজেট। যে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে নগরবাসীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঠিক বাস্তবায়ন ও বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে এ বছর একটি যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমূলক বাজেট গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর 'ক্লিন, ঢাকা গ্রীন ঢাকা' এই স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন বাজেটকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।

‎তিনি বলেন, এবারের বাজেটে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণসহ মশাবাহিত বিভিন্ন বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ করা, নগরের জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন ভেঙে পড়ার রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ম্যানহোল ব্যবস্থা আধুনিককরণ, আবাসিক ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার পরিকল্পনা, বাসা বাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, বর্জ্য হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, রোড লাইট ও রোড সেফটির জন্য আধুনিক লাইটিং ব্যবস্থা, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট ও বাজার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, হকারদের জন্য একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ, বস্তিবাসী উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, ভবিষ্যতে কোরবানির হাট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল সংস্কার করে যাত্রী কল্যাণমুখী করা, বিভিন্ন খাল দখলমুক্ত করে পরে সংস্কারের মাধ্যমে খালের প্রবাহ ধরে রাখা, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করাসহ নগরবাসীর সেবায় একটি উন্নত, পরিকল্পিত ও আধুনিক বসবাসযোগ্য নগরী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে একটি বাস্তবমুখী বাজেট দিয়েছি।

‎ডিএনসিসির প্রশাসক আরও বলেন, আমি যখন ৪ মাস আগে নগর ভবনের দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন ডিএনসিসির বাজেট ঘাটতি ছিল এবং বাজেট স্বল্পতার কারণে নগরবাসীর বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তবে বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় বাজের স্বল্পতা কাটিয়ে আমরা স্বল্পসংখ্যক বাজেট নিয়েও নগরবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

এএম/এমআই