নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ কেবল স্মরণে রাখলেই হবে না, তাদের আদর্শ ও চেতনাকে জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ধারণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী।
আলোচনা সভার আগে সংস্কৃতি মন্ত্রী মহম্মদপুর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বীর শহীদ আহাদ আলী ও শহীদ সুমনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শহীদ আহাদ ও সুমনের মতো তরুণদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাচ্ছে। তাদের এই আত্মদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, আজ সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে মহম্মদপুরের রসুলপুর থেকে বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের কল্যাণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর কর মওকুফ, প্রতিটি পরিবারের দায়িত্বশীল নারী সদস্যের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে ইমাম, পুরোহিত, ঠাকুর ও খ্রিস্টান ধর্মগুরুসহ সব ধর্মীয় নেতাকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় এনে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, দেশের বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের আদর্শকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এএইচ/এফএ