Dhaka Mail Logo

জাতীয়

শিশুদের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর স্নেহের হাত, মেটালেন আবদার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

সকাল থেকেই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র মুখরিত ছিল দেশের ৬০টি জেলা থেকে আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে। সেই আনন্দ আর উচ্ছ্বাস আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি। বুধবার (১৫ জুলাই) মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সবুজ বিদ্যালয়’কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে কখনো কোমলমতি শিশুদের মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে, কখনো তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিংবা পরম মায়ায় শিশুদের সাথে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি হয়ে এক অনন্য ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের তৈরি নানা হস্তশিল্প ও চিত্রাঙ্গন দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি যেমন তাদের পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন, তেমনি পরম স্নেহে পূরণ করেছেন খুদে শিক্ষার্থীদের একের পর এক আবদার।

কর্মসূচি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এই সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। ছোট্ট শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ এলাকার স্বাতন্ত্র ঐহিত্য এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি চিত্রাঙ্গন, বিভিন্ন হস্ত শিল্প, কাগজের তৈরি এলাকার ঐতিহ্য তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নভাবে সাজানো স্টলে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছো তোমরা?

স্টলে বিভিন্ন হস্তশিল্প দেখে বলেন, এসব কি তোমরা বানিওছো? শিক্ষার্থীরা সবাই বলে উঠে- ‘জি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’।

আরও পড়ুন

গাড়িবহর থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

স্টলগুলো শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী খেলার সুবিধা তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, কী কী খেলা শিক্ষার্থীরা খেলে? শিক্ষকরা তখন ‘আনন্দ শিক্ষা’ ও ডিজিটাল শিক্ষা’ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

‘টিফিনের টাকা দিয়ে জমা করে সাহায্য করি’

একটি স্টলের শিক্ষার্থী বলেন, আমরা প্রতিদিন টিফিনের টাকা জমিয়ে যারা অস্বচ্ছল বন্ধুদের সাহায্য করি। তাদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আমরা টিফিন করি।

এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা ভালো কাজ করছো।

এই স্টলের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের পাঠ্যক্রম কীভাবে হয়, কখন ক্লাস শুরু হয়, টিফিনের জন্য সময় কখন, কী কী গেইম তারা খেলে ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

PM2

একটি গেম সস্পর্কে শিক্ষার্থী  ও শিক্ষকের কাছ থেকে অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী এবং বলেন, গেইমটা তো চমৎকার।

‘যেখানে ময়লা দেখবে, নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে’

একটি স্টলে গিয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীদের সাথে হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা বিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন রাখবে। যেখানে ময়লা দেখবে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে। ঠিক আছে।

হবিগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কুশল বিনিময় করে বলেন, তোমরা সবাই ভালো আছো তো।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আপনি কেমন আছেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ভালো আছি।

আরও পড়ুন

বৃক্ষমেলায় অন্যরকম দিন, স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

স্টলের বিভিন্ন সামগ্রী দেখে বলেন, এসব তোমরা বানিয়েছো? ভেরি গুড। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই একটি করে গাছ লাগাবে। গাছের পরিচর্চা করবে। ঠিক আছে। শিক্ষার্থীরা এই সময়ে সমস্বরে বলে উঠে ‘জি স্যার।

’শিশুদের পকেট পাঠাগার চমৎকার’

একটি স্টলে প্রধানমন্ত্রী দেখেন শিশুদের জন্য লাইব্রেরি করে বই সাজানো আছে রেকে। একজন ছোট্ট শিশু তাদের পকেট লাইব্রেরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা বলে- এই লাইব্রেরিতে লেভেল করে স্যার শিশুদের বই সাজানো আছে। যে শিশুটির যে বই পড়তে চায় সেই সেই লেভেলে গিয়ে বইটি নেবে।

OM22

এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা সুন্দর জিনিস সেট করেছো। এজন্য তোমাদের ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিশুদের আবদার

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার সময়ে বিভিন্ন স্টলে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের আবদারও পূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একটি স্টলে ছোট্ট শিক্ষার্থীদের আবদার করে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যদি একটি টবে গাছের চারাটা রোপন করে দেন সেটা আমরা আমাদের স্কুল আঙিনায় লাগাবো স্মৃতি হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে রাজি হলেন। কোথায় তোমাদের টব ও গাছ। দ্রুত শিক্ষার্থীরা টব এনে গাছের চারাটা প্রধানমন্ত্রী হাতে দিয়ে তা টবে মাটির ভেতরে লাগিয়ে দেন।

একটি স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ছবি তোলার আবদার করে বলেন, আমরা আপনার সঙ্গে স্যার একটি ছবি তুলতে চাই।

সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো অসুবিধা নেই।’ এই বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্টলের ভেতরে চলে যান এবং শিশুদের সঙ্গে দাঁড়ান।

সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী সুবজ বিদ্যালয় কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থলে স্টল পরিদর্শনে আসেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পরে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন শুরু করেন। প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে প্রধানমন্ত্রী দেখেন এবং শেষ স্টল পরিদর্শন করেন সাড়ে ১১টায়।

বিইউ/জেবি