নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পাচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আভাস থাকলেও উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও সীমান্তবর্তী নতুন নতুন এলাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে বন্যার আওতা সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং লাখো মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ইতোমধ্যে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর একাধিক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর বিভাগের নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ফেনীতেও দ্রুত বদলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর পানি মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই মিটারের বেশি বেড়েছে। পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও নদীতীরবর্তী মানুষ বাঁধ ভেঙে নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
অন্যদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সাত জেলায় দেড় লাখের বেশি পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছয় লাখেরও বেশি। ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা এখনো বন্যায় আক্রান্ত। দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। সরকার বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও চিকিৎসা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ও সাপে কাটার ঘটনা মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
দেশে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা নেই
এদিকে আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস বলছে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগসহ ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যার ভোগান্তিও আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
জেবি