জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
দেশ পুনর্গঠনে সরকার কোনো ধরনের বাধাই মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে মতবিনিয়মকালে তিনি তার সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। সকল সময় আমি একটি কথা বলি, বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। এই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ বিএনপির কাছে থাকবে, যতক্ষণ বিএনপির পাশে জনগণ থাকবে বিএনপি কোনো বাধা মানবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে এবং সারা বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে, ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, দেশকে পুনর্গঠন করার সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য আমি শেষ করছি। ইনশাল্লাহ আবারও আসব আপনাদের এলাকায়। আবারও আপনাদের সঙ্গে কথা হবে।’
শুনলেন ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের গল্প
এসময় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের কাছে জানতে চান, তারা এই কার্ড পাওয়ার পর কী কী সুবিধা পাচ্ছেন।
পারুল আখতার নামে এক নারী মঞ্চে উঠে বলেন, ‘আমি এই কার্ড পেয়ে অনেক উপকার পেয়েছি। আমার সংসারের অভাব ঘুচেছে। আমি আশা করি, আগামীতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের এরকম সহযোগিতা করে যাবেন।’
অন্য এক উপকারভোগী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে আমার খুব উপকার হয়েছে। আমার ওষুধ লাগে প্রতি মাসে। কার্ড পাওয়ার পর এখন ওষুধ কিনে খেতে সুবিধা হয়েছে।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বোনদের কাছে যে কথা শুনলাম, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার পরে একটু হলেও তাদের জন্য সুবিধা হয়েছে সংসারের কাজগুলো গোছানোর জন্য। আমাদের লক্ষ্য এটাই, আমাদের উদ্দেশ্য এটাই, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারে, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, যদি দেশের প্রত্যেক মায়ের হাতে, প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, তাহলে আপনাদের সাহায্য, আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সহযোগিতা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রয়োজন। আপনারা দেশের নারী সমাজ সকলে যদি বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করেন, যদি পাশে থাকেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ফ্যামিলি কার্ড আস্তে আস্তে সারাদেশে পৌঁছে দিতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সমাজে একটি বিরাট পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। কারণ ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো আলোকিত হবে আমাদের নারীরা। একই সেঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও তারা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি কথা বলি, ‘করব কাজ গড়ক দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ সবাই যাতে এই বাংলাদেশে আমরা আগামী দিনে একটু ভালো থাকতে পারি, একটু ভালো চলতে পারি, সেটি হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনীতি, সেটি হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেশে সকলকে শান্তিতে নিয়ে চলতে চাই। সকল ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। আমরা যদি ধৈর্যশীল হই, যদি ধৈর্য সহকারে চলি, তাহলে আমরা এই দেশটাকে আমাদের প্রত্যাশিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই, খ্রিস্টান হই- আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে সকল ধর্মের মানুষ এই দেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করেছি অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও চাই সকল ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে। সকলকে মানবিকতার ভিত্তিতে বিচার করে আমরা এই দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা।
গৌরনদীর ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। ৩৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পরের কর্মসূচি শহরের সিটি করপোরেশন এলাকায় ত্রিশ গোডাউনের বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদি খাল পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
বিইউ/এএইচ