Dhaka Mail Logo

জাতীয়

২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসবে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ এএম

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর চাহিদা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যও রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত কৌশলপত্রটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা, জনমত গ্রহণ এবং ৩১টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারী সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কৌশলপত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ, নেট মিটারিং, ওপেক্স (OPEX) মডেল, স্মার্ট গ্রিড, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS), সৌরচালিত সেচ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বায়ু বিদ্যুৎ, পানি বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং অবকাঠামো এবং ক্লিন কুকিং প্রযুক্তির সম্প্রসারণের উদ্যোগ রাখা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি বিশেষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল গঠন, সহজশর্তে অর্থায়ন, ক্রেডিট গ্যারান্টি, কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থার বিকাশ, আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, কর অবকাশ এবং স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কৌশলপত্রে কৃষিজমি সুরক্ষা, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে একটি রিয়েল-টাইম অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার মাধ্যমে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। নীতিগত দিকনির্দেশনা, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি জাতীয় পলিসি কাউন্সিলও গঠন করা হবে।

এএইচ/এমআই