জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:৩৮ পিএম
গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের কারণ উদঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই বের হয়ে এসেছে ধর্ষণের নেপথ্য কারণ।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরেন র্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন ।
তিনি বলেন গ্রেফতারের পর তারা জানিয়েছে, ওই ছাত্রী তার বন্ধুকে নিয়ে মেসে ফিরছিল। পথে তাকে দেখে ইভটিজিং করা হয়। ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর বন্ধুকে মারধর করে ধর্ষণকারীরা। এরপর সেই ছাত্রীকে একটি ভবনে নিয়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এর আগে এই ছয়জনকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলো- রাকিব মিয়া ওরফে ইমন (২২), পিয়াস ফকির (২৬), প্রদীপ বিশ্বাস (২৪), নাহিদ রায়হান (২৪), মোহাম্মদ হেলাল (২৪), সূর্য মোহন্ত (২৬)।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রথম করেছে বলে জানিয়েছে। তারা মেয়েটির বন্ধুকে চিনত না। তাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে এই ধরনের কোনো মামলাও নেই। তার বন্ধুর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা তাকে ধরে নিয়ে যায়। তারা এর আগে কয়েকজন নারীকে লাঞ্ছিত করেছে এবং সেদিনের ঘটনা জানিয়েছে। এ ঘটনায় তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
এই ছয়জনের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও তাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাইনি।
এসময় তিনি আরো জানান, ওই ছাত্রী আমাদেরকে জানিয়েছে ধর্ষণের সময় তাকে কোনো ভয়-ভীতি দেখানো হয়নি। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে তারা ভয়ভীতি দেখানোর জন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। তারা সকলেই মাদক কারবার করত। তাদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতারকৃত রাকিবে নেতৃত্বে স্থানীয় একটি অপরাধ চক্র গড়ে ওঠে। তারা সবাই গোপালগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। এটার সূর্য মহন্ত ব্যতীত তারা প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর ধরে নবিনবাগ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন আড্ডাসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে আসছিল। এছাড়া তারা চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের উত্যক্ত করতো। সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আটক ব্যক্তিরা ইজি বাইক নিয়ে নবিনবাগ এলাকায় যাওয়ার পথে ওই ছাত্রী ও তার বন্ধুকে নাম পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। এসময় তারা বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর বন্ধুর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। তাদেরকে জোর করে ঘটনাস্থলের পাশে একটি ঢালু জায়গায় নিয়ে যেতে চাইলে সেই ছাত্রীর বন্ধু তাদেরকে বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তাকে মারধর করে। পরে ছাত্রীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
গ্রেফতারকৃত ৬ জনের পরিচয়
রাকিব মিয়া ওরফে ইমন একটি মাদরাসা থেকে আলিম পাশ। সে স্থানীয় একটি ক্লিনিকের রিসিপশনিস্ট হিসেবে চাকরি করে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারির মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত পিয়াস ফকির গোপালঞ্জের একটি পাওয়ার হাউজে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে। প্রদীপ বিশ্বাস স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। সে গোপালগঞ্জে হোম সার্ভিসের মাধ্যমে এসি ও ফ্রিজ মেরামতের কাজ করত। গ্রেফতারকৃত নাহিদ রায়হান স্থানীয় একটি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। হেলাল স্থানীয় একটি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ণরত। সে একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার হিসেবে চাকরি করত। গ্রেফতারকৃত তূর্য মোহন্ত খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৮ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে। পরে সে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়ণের জন্য বিদেশ গমন করে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ শেষ বর্ষে থাকাকালীন কোভিড পরিস্থিতির কারণে সে দেশে চলে আসে এবং গোপালগঞ্জে সদরে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এমআইকে/ একেবি