নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, দেশের সব সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এ জন্য ই-জিপি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, ব্যবহারকারীবান্ধব এবং অংশীজনদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হবে। দেশের সব সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি স্তবায়ন করতে চায় সরকার
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীতে ই-জিপি সিস্টেমের উন্নয়ন, বাধ্যতামূলক ই-জিপি বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত দুটি অংশীজন পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনের প্রথম কর্মশালা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন প্রাঙ্গণের এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় কর্মশালা হয় বিপিপিএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সরকারি ক্রয়ে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর ই-জিপি ব্যবস্থা অপরিহার্য। সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের বড় একটি অংশ সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে ব্যয় হয়। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সুশাসন আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
তিনি বলেন, দেশের সব সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। সে জন্য ই-জিপি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, ব্যবহারকারীবান্ধব এবং সব অংশীজনের চাহিদার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) আয়োজিত কর্মশালাগুলো ছিল ধারাবাহিক অংশীজন পরামর্শ কার্যক্রমের অংশ। কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল ই-জিপি সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা, সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং বিপিপিএর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা।
কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রকল্প পরিচালকেরা অংশ নেন। তাঁরা ই-জিপি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিকেলের কর্মশালায় ই-জিপি প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাত, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী।
এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ই-জিপি বাস্তবায়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে বিপিপিএ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে অংশীজন পরামর্শ সভার আয়োজন অব্যাহত রাখবে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান প্রণয়ন করা হবে।
সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, প্রকল্প প্রণয়নের দুর্বলতা অনেক সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। তাই সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত মানের ফলাফল নিশ্চিত করতে শক্তিশালী সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নত প্রকল্প পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এএইচ/এআর