নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে তিনি কখনোই অবজ্ঞা করেননি বলে দাবি করলেন আলোচিত-সমালোচিত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বললেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব দাবি করেছেন।
আনিস আলমগীর লিখেছেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অনেক মিডিয়া তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাচ্ছে। সে কারণেই সবার উদ্দেশে তিনি এই বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে এই সাংবাদিকের দাবি, ‘খবরে নাম ফাটানোর সস্তা উদ্দেশে সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি, আরও কয়েকজনের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে থানায় যে অভিযোগ করেছে, তা নিছক ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।’
তার আরও দাবি, ‘আমি আমার বিষয়ে বলতে পারি, আমি কখনোই ‘জুলাই’কে অবজ্ঞা করিনি, জুলাইয়ের শহীদদের প্রতিও অসম্মান দেখাইনি। বরং যারা তাদের আত্মত্যাগকে অপমান করে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করে, তাদের বিরুদ্ধেই আমি সরব থেকেছি এবং তার সুস্পষ্ট প্রমাণ রেকর্ডে রয়েছে।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমার সমালোচনা বরাবরই ড. ইউনূসের অপশাসন এবং ‘জুলাই’ নামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তির মববাজি, চাঁদাবাজি, প্রতিহিংসা, অগণতান্ত্রিক ও দুর্বৃত্তসুলভ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। এখন যদি এসবের সমালোচনাকেই ‘জুলাই অবমাননা’ বলে চালানো হয়, তাহলে সেটা নিছক সত্যকে চেপে যাওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। চেতনা ব্যবসা।’
সরকারের উদ্দেশে আনিস আলমগীর লিখেছেন, ‘যদি সমালোচনার এই অধিকারটুকুও কেড়ে নিতে চান, তাহলে সরকারের উচিত স্পষ্ট করে আইন করে দেওয়া- জনগণ ‘জুলাই’ নিয়ে কী বলবে, আর কী বলতে পারবে না।’
প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওই আন্দোলন নিয়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন টকশোতে কথা বলে এবং ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন আনিস আলমগীর।
এসবের জেরে এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেফতার হন তিনি। সে সময় দুদকের একটি মামলায়ও গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিন মাস কারাবরণ শেষে চলতি বছরের ১৪ মার্চ জামিনে মুক্ত হন তিনি।
সম্প্রতি নানা মন্তব্যের জেরে আবারও আলোচনায় আনিস আলমগীর। জুলাই আন্দোলন নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে তিনিসহ উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, মেহের আফরোজ শাওন ও মডেল পিয়া জান্নাতুলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জিডি হয়েছে।
গত শনিবার (৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় জিডিটি করা হয়। এই ঘটনার জেরে নতুন করে আলোচনায় আনিস আলমগীর। তাকে আবারও গ্রেফতারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এএইচ