Dhaka Mail Logo

জাতীয়

বাবার মতোই বেতনের একাংশ সরকারি কোষাগারে দেন প্রধানমন্ত্রী!

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

তারেক রহমানের ভেতরে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান অনেকে। দেশব্যাপী খাল খনন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তার প্রমাণও দিচ্ছেন তিনি। এবার জানা গেল, বাবা জিয়াউর রহমানের মতোই তার বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন— মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলব আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’

2f2
বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি— রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (জিয়াউর রহমান) প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনো প্রয়োজনে খরচ করার জন্য।’

সরদার সাখাওয়াত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন অ্যাকাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দিই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’

প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মাঠে-ঘাটে কাজ করা মেহনতি মানুষদের কাছে যেতেন, তাদের কথা শুনতেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কোদাল হাতে মাটি কাটতেও দেখা গেছে তাকে। কৃষি এবং কৃষকদের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক।

প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পুত্র তারেক রহমানও যেন বাবার দেখানো পথেই হাঁটছেন। কৃষকদের জন্য তিনি কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় নিজ হাতে মাটি কেটে কর্মসূচির উদ্বোধনও করেছেন।

শুধু তাই নয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাদাসিধে পোশাক পরতেন। লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও তারেক রহমানকেও খুবই সাধারণ পোশাকেই দেখা যায় সবখানে।

এএইচ