নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশের নাগরিকদের শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক ক্ষুদে বার্তায় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানায়, এই ঐতিহাসিক ২৫০তম জন্মদিনে আমরা উদযাপন করছি সেই মূল্যবোধগুলো, যা আজও আমাদের পথ দেখায়: স্বাধীনতা, সাম্য এবং সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ঢাকার পক্ষ থেকে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বন্ধুদের সঙ্গে এসব আদর্শ ভাগ করে নিতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। স্বাধীনতার ২৫০ বছর এবং আগামীর পথে এগিয়ে চলার এই যাত্রাকে জানাই শুভেচ্ছা।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন জানান, আজ থেকে আড়াই শতাব্দী আগে, ১৭৭৬ সালে আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠাতা নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারা এমন এক বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, যা তাদের কাছে ছিল মানুষের জন্মগত ও মৌলিক অধিকার, নিজেদের শাসন করার অধিকার।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা এই সত্যগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ বলে মনে করি যে সব মানুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা তাদের এমন কিছু অধিকার দিয়েছেন, যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এর মধ্যে রয়েছে জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখ অন্বেষণের অধিকার। আর মানুষের এই অধিকার রক্ষার জন্যই সরকার গঠিত হয়। জনগণের সম্মতিই সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইংল্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা অর্জনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরার পর আমাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতারা ঘোষণা করেছিলেন, ‘এই ঐক্যবদ্ধ উপনিবেশগুলো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং ন্যায়সংগতভাবেই তাদের সেই মর্যাদা প্রাপ্য।’ এরপর তারা নিজেদের জীবন, সম্পদ এবং পবিত্র সম্মান বাজি রেখে সেই ঘোষণার প্রতি অটল থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন। যা ছিল সাহসী এক ঘোষণা। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা যথার্থভাবেই বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্পনাকে আলোড়িত করেছে। নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।’
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, মাত্র এক টুকরা পার্চমেন্ট কাগজ এবং ৫৬টি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা করেছিল আমেরিকা। কিন্তু সেটি কেবল একটি ঘোষণা ছিল না। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার স্বপ্নকে আমেরিকানরা বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে নিজেদের জীবন পর্যন্ত বাজি রেখেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী সেই ৫৬ জন সাহসী মানুষ জানতেন, তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। তারা জানতেন, সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ ও কঠিন এক যুদ্ধ, যে যুদ্ধে তাদের অনেকে হয়তো বেঁচে ফিরবেন না। তবু তারা নিজেদের আদর্শে অটল ছিলেন এবং আমেরিকাকে সবার আগে রেখেছিলেন।
এসএইচ/এফএ