জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে অর্জন তা কোনো একক ব্যক্তি কিংবা দলের নয়, এই অর্জন দেশের প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী ও শান্তিপ্রিয় মানুষের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ জুলাই) ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।
জুলাই শহীদদের বিচার এদেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তবে বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয়। এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। একটু বিলম্ব হোক তবুও অন্যায়কারীর যেন সঠিক বিচার হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, স্বজন হারিয়েছেন তাদের জন্য রাষ্ট্র তার সামর্থ্যমতো মূল্যায়নের চেষ্টা করবে। আপনাদের প্রতি যারা অন্যায়, অবিচার করেছে তাতে জড়িতদের দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে। তবে বিচারের আগ খেয়াল রাখতে হবে যাতে কারও প্রতি অবিচার না হয়।

জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে যার সাহস আছে। আপনারা আপনজনকে হারিয়েছেন, কেউ কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। যে অঙ্গ হারিয়েছেন তা ঠিক হয়ে যাবে? না, ঠিক হয়ে যাবে না। তবে সবাই মিলে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন আপনার আপন জনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। তাই আসুন দেশ, মাটি এবং মানুষের কল্যাণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণ ও আকুতি শুনে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
কেমন ছিল চব্বিশের জুলাইয়ের ৪ তারিখ
অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো কয়েকজন শহীদের পরিবারের সদস্য মঞ্চে এসে তাদের সন্তান ও স্বজনদের হারানোর লড়াকু দিনগুলোর স্মৃতি তুলে ধরেন। এ সময় এক শহীদ জননী তার সন্তানের আত্মত্যাগের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে উপস্থিত সবার মধ্যে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের পাশাপাশি সামনের সারিতে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দু'চোখে পানি টলমল করতে দেখা যায়।

এ সময় শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সকলের জন্যে রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জুলাই সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
এ ছাড়াও সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিইউ/জেবি