Dhaka Mail Logo

জাতীয়

এনআইডি আবেদনে জালিয়াতি ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় যাচাইয়ের উদ্যোগ

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

২৮ জুন ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন ও তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া কাগজপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য সরকারি ৯টি প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার পেতে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এপিআই যুক্ত হলে আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষা সনদসহ বিভিন্ন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা যাবে। এতে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে আবেদন করা কঠিন হবে এবং আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও কমে আসবে।

ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে এনআইডি নিবন্ধন বা তথ্য সংশোধনের জন্য নাগরিকদের জমা দেওয়া কাগজপত্র ম্যানুয়ালি যাচাই করতে হয়। স্বয়ংক্রিয় যাচাইব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় জাল কাগজপত্র, ভুয়া শিক্ষা সনদ, পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে আবেদন করা হয়। এতে আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগে, আবার অনেক আবেদন বাতিলও হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: এনআইডি জালিয়াতি, তথ্য বিক্রি করে কোটিপতি তারা!

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাসপোর্ট, শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ সরকারি ৯টি প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে এনআইডি সিস্টেম সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

হাতে লেখা শিক্ষা সনদধারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সূত্র জানায়, এ ধরনের নাগরিকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাদের জন্য ম্যানুয়ালি আবেদন করার সুযোগ রাখা হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে ইতোমধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছে এপিআই চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগ।

nid

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্র অনলাইনে যাচাইয়ের লক্ষ্যে পাসপোর্ট, শিক্ষা সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদসহ ৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছে এপিআই চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে কিছু তথ্য ম্যানুয়ালি অনলাইনে যাচাই করা যায়। তবে এপিআই পাওয়া গেলে ম্যানুয়াল যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না। আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হয়ে যাবে। এতে ভুয়া আবেদন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের প্রবণতা কমবে।

দেশের সাধারণ নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে জন্মনিবন্ধন সনদ, এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদ (যদি থাকে), ঠিকানা প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিলের কপি, নাগরিক সনদ, বাবা-মায়ের এবং বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডির ফটোকপি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও টিআইএন নম্বর (যদি থাকে) জমা দিতে হয়।

আরও পড়ুন: এনআইডি জালিয়াতি রুখতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ইসির

প্রবাসী নাগরিকদের ভোটার হতে হলে অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র (ফরম-২(ক)), মেয়াদযুক্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্র বা দূতাবাসের নির্ধারিত ডেস্কে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ ৫৬টি উপজেলা বা থানার নাগরিকদের জন্য বিশেষ তথ্য ফরম, শিক্ষা সনদ, পিতা-মাতার এনআইডি, মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা, স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি এবং ভাড়াটিয়া হলে বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র ও বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।

বাধ্যতামূলক নয় এমন কোনো তথ্য নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসীরা দেশে থাকা আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে তা জমা দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট দেশে বসে ফরম পূরণ ও তথ্য যাচাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন তদন্ত শেষে আবেদন অনুমোদন করবে। এরপর এনআইডি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: আজিজের ভাইদের এনআইডি জালিয়াতি, জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে’

ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে এক বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

এমএইচএইচ/এআর