নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
করের আওতা সম্প্রসারণে সরকার নতুন উদ্যোগ নিলেও তা কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির কারণ হবে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে কর আদায় নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। সরকার একদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে চায়, অন্যদিকে জনভোগান্তি এড়িয়ে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান অপেক্ষা বাস্তবায়ন দক্ষতা বেশি জরুরি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, করের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে খুদে দোকানিরাও যাতে ন্যূনতম কর ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। করের আওতা সম্প্রসারণ করতে গিয়ে কোনো ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেই বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য একদিকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস তৈরি এবং সেখান থেকে মেগা লুটপাট করার কোনো আগ্রহ বর্তমান সরকারের নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও রক্ষণশীল। অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল খাতকে শক্তিশালী করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া অনেক প্রকল্প এখন বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও অপচয় হবে। সে কারণে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে যেগুলো প্রয়োজন, সেগুলো যৌক্তিকীকরণ করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কম, সেগুলো নতুন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় বা একীভূত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সরকার পরিবর্তন হলেই সব প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া যায় না। এতে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই প্রকল্পগুলো বাছাই করে বাস্তবসম্মতভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের ধীরগতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক। তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায় চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সরকার আশাবাদী। গত কয়েক মাসে রাজস্ব প্রশাসনের কার্যক্রমে যে গতি এসেছে, তা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। আগামী অর্থবছরে নতুন কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত দুই লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ও সম্ভব হতে পারে।
ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার চাইলেই ঋণের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না, কারণ আগের সরকারের নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের দায়ও এখন বহন করতে হচ্ছে। তবে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, অতীতের ভুলনীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বাজেটের সুফল পেতে শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং তার কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা যেন শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ চ্যাম্পিয়ন হয়। শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
এএইচ/এফএ