Dhaka Mail Logo

জাতীয়

নগরবাসী সচেতন হলেই ডেঙ্গু থেকে বাঁচা সম্ভব: মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি অভিযান বা জরিমানার ওপর নির্ভর না করে নগরবাসীকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দিলে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব, আর নাগরিকদের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে রাজধানীকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে ‘সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটি’ পরিচালিত বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংস অভিযান পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা করা কিংবা কারাদণ্ড দেওয়া নয়। মূল লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং একটি ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা। তবে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে কেউ যদি অবহেলা করেন, সেক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, নগরবাসী যদি নিজ নিজ বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেন, তাহলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে ছাদের ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো জায়গায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি পরিবারের সদস্যকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

5

তিনি জানান, উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন স্থাপনায় মশকনিধন কার্যক্রম, লার্ভা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী ভবন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।

এদিকে অভিযানের অংশ হিসেবে লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্টিকার লাগিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। সরকার ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এএইচ/এএস