Dhaka Mail Logo

জাতীয়

উপকূলের সংকট নিরসনে ২১ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নে স্মারকলিপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের সংকট নিরসনে বিশেষ বরাদ্দ প্রদানসহ ২১ দফা প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন।

‎বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী দফতরে স্মারকলিপিটি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতেও জমা দেওয়া হয়।

‎ডিআরডিএফ’র সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, উপকূলে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ আঘাত হানছে। একইসঙ্গে লবণাক্ততা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট বেড়েছে। কৃষি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, নাগরিক নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে উপকূলের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১দফা প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাবসহ বেশকিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা সংসদে বাজেট আলোচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও বাজেট আলোচনায় তুলে ধরেছেন। বাজেট পাসের আগে উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ওই সব গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

‎স্মারকলিপিতে ২১ দফায় বলা হয়, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন করতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। সুন্দরবন সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

‎এ বিষয়ে গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি। সরকার বাজেট পাসের আগেই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি।

‎এএম/এআরএম