প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে তার উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এই বিদেশ সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) প্রধানমন্ত্রীর ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফর নিয়ে মালয়েশিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি এই সফরকে ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাহদী আমিন বলেন, এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক নতুন দিগন্তের সূচনা। মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা আগামী দিনে দুই দেশের জন্য বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন এবং তার হাত ধরেই বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে জনশক্তি রফতানি শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়াও মালয়েশিয়া সফর করেন এবং এখানকার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক বাংলাদেশে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচনে বিজয়ের পর অন্যতম বিশ্বনেতা হিসেবে অভিনন্দন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।
মাহদী আমিন বলেন, প্রচলিত ধারার বিপরীতে এবার অত্যন্ত ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রেগুলার ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে মালয়েশিয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি ডা. জুবাইদা রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সফরসঙ্গী হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলের সঙ্গে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
৯ খাতে ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি
মাহদী আমিন বলেন, সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত ও সীমিত পরিসরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও রাজপ্রাসাদে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি আরও জানান, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকসমূহ শেষে দুই দেশের সম্মতিতে সর্বমোট ৯টি খাতের অধীনে ৩৩টি পয়েন্ট সম্বলিত একটি ঐতিহাসিক যৌথ বিবৃতি ইস্যু করা হয়। খাতগুলো হলো— রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই এবং সেমিকন্ডাক্টর খাত, কর্মী নিয়োগ ও শ্রমিক কল্যাণ, শিক্ষা ও পর্যটন, জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহায়তা সম্প্রসারণ।
বিইউ/এফএ