images

জাতীয়

প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধনের দাবি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনার পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। দলটির নেতারা বলেছেন, ঘোষিত বাজেট বাস্তবতা-বিবর্জিত, অগণতান্ত্রিক এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে আরও উৎসাহিত করবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর তোপখানা রোডে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।

দলের পক্ষ থেকে লিখিত বাজেট প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ এমন একটি অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রত্যাশা করেছিল, যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

তার ভাষ্য, বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে এবং আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প, কৃষি ও উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে এ বাজেট অর্থপাচার ও বৈদেশিক ঋণনির্ভরতার ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত কর্মসংস্থান। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান তারা।

সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দেশের সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এতে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের চাপ হ্রাস পাবে এবং আগামী অর্থবছরে রাজস্ব সক্ষমতাও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদাবনতির ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। বর্তমান বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

এ সময় দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুর কাদির, শাহাবুদ্দিন কবিরাজসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এআরএম