নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিশানা করেছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক।
বাজেটের সমালোচনা ও সরকারবিরোধী বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মামুনুল হকের প্রসঙ্গ টেনে ‘মুতা বিয়া’ ইস্যু উত্থাপন করে এর ব্যাখ্যা জানতে চান।
তবে এ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জানায় বিরোধী দল। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্যের ওই অংশটুকু এক্সপাঞ্জের জন্য স্পিকারকে আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্য ঘিরে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে বিএনপি কিংবা সরকারকে থামানো যাবে না।
সিগারেট ও মদ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘কার কী অভ্যাস আছে তা আল্লাহই ভালো জানেন।’ এসময় তিনি হেফাজত নেতা মামুনুল হক ও ছাত্রশিবির নেতা জিসানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
মামুনুল হককে উদ্দেশ্য করে আবু আশফাক বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক বড় বড় কথা বলেন। এই বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও বলেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে এক নারীর সঙ্গে ধরা পড়েছিলেন এবং সেটিকে ‘মুতাবিয়া’ বলা হয়েছিল, সেটি আসলে কী ছিল, আমি জানি না।’
ঢাকা -১ আসনের সংসদ বলেন, ‘অতীতে ‘মুতা বিয়া’ শব্দটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, ‘মুতা বিয়া আসলে কী।’
তবে এ সময় ইশারায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে বক্তব্যের বিষয় পরিবর্তনের আহ্বান জানান। পরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এজন্য তাকে ধন্যবাদ দেন।
এদিকে তার বক্তব্যের পর বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জানান। সরকার দলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি তা সমর্থন করে স্পিকারকে ওই অংশটুকু এক্সপাঞ্জের আহ্বান জানান।
এ সময় আবু আশরাফ অন্তর্বর্তী সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তাদের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল এবং অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস হলেও এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সরকার দলীয় এই এমপি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষক, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা এবং স্বাস্থ্য খাতে কর-সুবিধাসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া নিজের নির্বাচনি এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি সড়ক উন্নয়ন, গ্যাস সংযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল বৃদ্ধির দাবি জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।
এমএইচ/এএইচ