নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
রাজধানীর আদাবরে বিকাশের দোকানিকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই ও থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২। তিনি কব্জি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদের আশ্রয়দাতা বলে দাবি র্যাবের। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলো- ফরিদ উদ্দিন বাবু ওরফে এক্সেল বাবু, কব্জি কাটা গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু সাঈদ, রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তসির ও মো. তরিকুল ইসলাম।
নাইমুল হাসান জানান, গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত মোহাম্মদপুর, আদাবর ও মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, চাপাতি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব অধিনায়ক বলেন, গত ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় আদাবর থানাধীন শেখেরটেক-৭ এলাকার একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা বিকাশ এজেন্টকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় তারা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর থানা পুলিশ তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালালে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাইদুল ইসলাম এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ গুরুতর আহত হন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে আমির ও রুবেল নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে তাৎক্ষণিক অভিযানে আমির ও রুবেলসহ ছয়জন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার পর চক্রের মূলহোতাসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে র্যাব-২ এর গোয়েন্দা দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ায়।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়। অভিযানে মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে ‘এক্সেল বাবু’, ছিনতাইকারী চক্রের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাঈদ রাশেদ, খন্দকার মোহাম্মদ মিল্টন, মো. তোসির ও তারিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
কব্জি কাটা গ্রুপের সঙ্গে এক্সেল বাবুর সংপৃক্ততার বিষয় জানতে চাইলে নাঈমুল হাসান বলেন, কব্জি কাটা গ্রুপের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী এক্সেল বাবুর সম্পৃক্ততা সে নিজেই স্বীকার করেছে। এক্সেল বাবু হচ্ছে কব্জি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও আবু সাঈদের গুরু। এক্সেল বাবুর মতো পৃষ্ঠপোষকদের আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত আটক করতে পারব না, ততক্ষণ এই গ্যাংগুলো একটিভ হতে থাকবে। এ কারণে আমরা একটু এগ্রেসিভ পুলিশিং করতে চাই। আবু সাঈদের বিষয় তিনি বলেন, আনোয়ার গ্রেফতারের পর পুরো এই গ্রুপের কিং হিসেবে সে কাজ করছে।
র্যাব অধিনায়ক বলেন, সম্প্রতি দেশে একটা উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। রামিসা হত্যা মামলায় খুব দ্রুততম সময়ে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়ায় যদি ছিনতাইকারী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা করা গেলে জনগণ আরও বেশি নিরাপদ বোধ করতো।
একেএস/ক.ম