নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও বর্তমানে দ্রুত বর্জ্য অপসারণই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।
বুধবার (১৭ জুন) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ৪ হাজার ৯৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে কষ্টসাধ্য দায়িত্ব পালন করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাঁদের আন্তরিকতা এবং নগরবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই রাজধানীতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ভোগান্তির নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে আগামী বছর বর্তমান পদ্ধতি বহাল থাকবে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ঈদুল আজহায় স্বল্প সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে নগরবাসী দুর্গন্ধ ও পরিবেশগত দুর্ভোগ থেকে অনেকটাই মুক্ত ছিল, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি জানান, তাঁদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার আওতায় ‘হেলথ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ছয় হাজারে উন্নীত করা হবে।
এ ছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান যেন উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে সিটি করপোরেশন বলেও জানান তিনি।
সবশেষে মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি নগরবাসীরও যৌথ দায়িত্ব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এআর