নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুন ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
মিঠাপানির মাছের রোগ প্রতিরোধ এবং মড়ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকা মিঠাপানির মাছকে রোগমুক্ত ও টেকসইভাবে সংরক্ষণ করতে হলে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনসহ আধুনিক গবেষণার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মৎস্য উৎপাদন টেকসই রাখতে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং গবেষকদের এ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও মাছের খামারে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উচিত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা। জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক, মৎস্য বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এমআই