জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ জুন ২০২৬, ১২:২৫ এএম
বর্তমানে দেশে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার পরিবেশ নেই বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন। পাশাপাশি যৌক্তিক সমালোচনা করারও কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিট সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমি আজকের দিনটা আমাদের জন্য একটা সংবাদপত্র জগতের জন্য বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন বৈকি। আজকে এই দিনে বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র একসময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, হাতে গোনা মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতগুলো সাংবাদিকদের ভাইদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। তার মানে একটা জিনিস প্রমাণিত হয়েছে যে, সংবাদপত্রের যে টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি অন্তত নেই এই মুহুর্তে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। চারটি বাদে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। একই সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বন্ধ মানে বিলুপ্ত করে বাকশাল নামে একটা দল গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, উনি যেরকম বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন, একই সাথে সংবাদপত্রের উপরে যে রেস্ট্রিকশন ছিল, সেটাও তুলে নিলেন। পরবর্তী সময় কী হয়েছে কতটুকু হয়েছে এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।
প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবার প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকসহ গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মতবিনিময় করেছেন। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে বিভিন্ন টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও বার্তা প্রধানদের সাথেও মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের দুপুরে মধ্যহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করলেন বিএনপি বিট সাংবাদিকদের সাথে। তিনি তাদের সাথে দুপুরে খাবার খান।
‘প্রতিশোধের মানসিকতা বদলাতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন বলেছিলাম যে, আসুন আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা আমরা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ আমার সাথে হয়েছে, আপনি এখন প্রতিশোধ নিলে আপনার সেটা আপনি ফেরত পাবেন বা একদম আগের মত হয়ে যাবে? হবে না। আমরা আমাদের সেই মাইন্ডসেট থেকে বেরিয়ে আমরা কী করতে পারি দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মানুষের জন্য। পারি বা না পারি সেটা হচ্ছে পরের ব্যাপার, চেষ্টা তো করতে পারি, সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার। অন্তত এই মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা কেন সামনের দিকে এগবো না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি ব্যাপারে সবাই কনসার্ন। আপনাদের পত্রিকায় প্রায় এরকম নিউজগুলো আসে দেখি, যেমন ধরেন আমাদের ইয়াং জেনারেশনের ড্রাগের একটা প্রবলেম দেখা দিয়েছে। হয়ত বিশ্বব্যাপী কম বেশি আছে, এখন আপনি কতজনকে ধরবেন, কতজনকে চিকিৎসা দিবেন, কতজনকে আপনি কাউন্সিল করবেন? সবকিছু একটা রিসোর্সের লিমিট আছে, ক্যাপাবিলিটি আছে, ক্যাপাসিটি আছে। তাহলে বিষয়টিকে আর অন্য কিভাবে এড্রেস করা যায়? এটা এড্রেস করার আরও কিছু উপায় আছে। দেখুন ব্যাপারটাকে আমাদের অবশ্যই এড্রেস করতে হবে যে, এই সমস্যা থেকে কিভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বের করে নিয়ে আসব। এই চিন্তার পাশাপাশি বা এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার পাশাপাশি আরেকটা বিষয় আছে যে আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তো আমার সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে, তরুণদেরকে যে এনার্জিটা তাকে বার্ন করার একটা এভিনিউ দিতে হবে, একটা স্কোপ দিতে হবে, সে সুযোগ তাকে ক্রিয়েট করে দিতে হবে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশে যেখানেই তাকাই না কেন, কয়টি খেলার মাঠ আছে অর্থাৎ আমাদের যারা এখন এসবের (ড্রাগ) মধ্যে ইনভলভ হয়ে যাচ্ছে, অথবা সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে আছে, বুঝে হোক না বুঝে হোক ভালো মন্দের মধ্যে পার্টিসিপেট করে ফেলছে। খেলার মাঠ সব বন্ধ। ছেলে হোক মেয়ে হোক উভয়ের জন্য খেলার মাঠ বলতে কিছু নেই।
তরুন প্রজন্মের সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ঘাটতি আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্কুল পর্য়ায় থেকে এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন।
‘আমি মিস করি এসব’
লন্ডনে সবুজ গাছ-গাছালির কথা স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা তো এখন আমি খুব মিস করি। ওই কাজগুলো বিশাল বিশাল সব কাজ খুব ভালো লাগতো আমার আর সামারে এখন তো সামার আসছে তো বিভিন্ন আমাদের দেশে কোকিলের মতন একটা পাখি ছিল। তো একটা ডাক দিলে আরেকটা ডাক দিত বিকালের দিকে। আরেকটা ডাক দিত। মাঝে মাঝে আমি ওদের ওই গান শোনার জন্যই হাঁটতাম। যেদিন কাজ থাকতো না গান শোনার জন্য আমি হাঁটতাম। একটা ডাকে আরেকটা ডাকে আরেকটা ডাকেৃ মানে ইকোর মত হচ্ছে পাখিগুলার ডাক। খুব সুন্দর লাগতো। খুব মিস করি আমি।
‘গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন, শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে, আপনার সহযোগিতা না পেলে তো আমি বুঝতে পারবো যে কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে জিনিসটা। সহযোগিতা পেলেই অন্তত বুঝতে পারব যে কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে অথবা ভালো কাজের পথটা আপনাকেও দেখাতে হবে, আমি দেখব, আমার মতন করে আপনি আপনাকেও দেখাতে হবে। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকে এগিয়ে আসতে হবে। এই সহযোগিতাটা আমি আপনাদের কাছে চাইছি। আপনাদের কাছে আজকের এই অনুষ্ঠানে আমার যে আপিলটা অর্থাৎ আমাকে যদি আপনারা হেল্প করেন, আমার জন্য কাজটা করতে অনেকটা ইজি হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমাদেরকে আমাদের পরিবেশটা বাঁচাতে হবে, আমাদেরকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে, আমাদের সন্তানদেরকে যেভাবে হোক আমাদেরকে রাইট ট্র্যাকে রাখতে হবে। সেটা শিক্ষার মাধ্যমে হোক, সেটা কালচারের মাধ্যমে হোক, সেটা স্পোর্টসের মাধ্যমে হোক। সেটা মানবিক সামাজিক ধর্মীয় মূল্যবোধগুলো তাদের মাঝে দেওয়ার মাধ্যমে হোক, আপনাদের কাছে এতটুকু আপিল জানাতে চাই।
বিইউ/এএইচ