images

জাতীয়

বিলবোর্ড ব্যবহারে ভিন্নতা, সিটি ও ইউনিয়নকে একই কাতারে রাখল ইসি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে বিলবোর্ড ব্যবহারে আলাদা সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির প্রণীত খসড়া আচরণ বিধিমালায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডভিত্তিক একই নিয়ম রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগে রাখা হয়েছে ভিন্নতা। ফলে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে প্রচারের এই মাধ্যম ব্যবহারে থাকছে আলাদা হিসাব।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তৈরি করা খসড়া আচরণ বিধিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ওয়ার্ডপ্রতি একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রেও একই বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইউনিয়ন বা পৌরসভাপ্রতি একটি অথবা সমগ্র নির্বাচনি এলাকায় ২০টি—এ দুটির মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ বিলবোর্ড প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রতি থানা অথবা উপজেলায় একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী ওয়ার্ডপ্রতি একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীরা যতগুলো ওয়ার্ড থাকবে, ততগুলো বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে একজন সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী একটি ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন করেন। সেক্ষেত্রে সমগ্র ওয়ার্ডজুড়ে তিনি একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। সংরক্ষিত নারী সদস্যরা তিনটি ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন করেন। এ ক্ষেত্রেও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা তিনটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোকে সমমান ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান, একজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সরাসরি ভোটে সমগ্র উপজেলার জন্য নির্বাচিত হন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইউনিয়ন বা পৌরসভাপ্রতি একটি অথবা সমগ্র নির্বাচনি এলাকায় ২০টি—এ দুটির মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ বিলবোর্ড প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। এখানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম রাখা হয়েছে। আবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী প্রতি থানা অথবা উপজেলায় একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না বলে আচরণ বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যান্য যেসব বিধিনিষেধ রয়েছে, তা সব ক্ষেত্রেই একই রকম। যেমন—বিলবোর্ডের আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট হতে হবে। বিলবোর্ড স্থাপনে কোনোভাবেই জনসাধারণের বা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না কিংবা পরিবেশের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা যাবে না।

আচরণ বিধিমালা নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার আদলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। তবে যেহেতু এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা, তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।

আচরণ বিধিমালায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডগুলোকে সমানভাবে বিবেচনা করে বিলবোর্ড ব্যবহারে একই ধরনের বিধান আনা কতটা যৌক্তিক—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো এভাবে চিন্তা করিনি। আমরা প্রতি ওয়ার্ডভিত্তিক একটি করে নির্ধারণ করে দিয়েছি। এজন্য হয়তো সবগুলোতে একটি করে করা হয়েছে। আপনি যেহেতু বিষয়টি আমাদের নজরে আনলেন, এছাড়া আমরা মতামতের জন্য ওয়েবসাইটেও দিয়েছি। আমরা চিন্তা করে দেখব সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে দুটি করে বিলবোর্ড কিংবা বড় ওয়ার্ডগুলোতে বিলবোর্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায় কি না। আমরা আলোচনা করে দেখব।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে আরও ৩৪৯টি। ৪৭৬টি আইনি জটিলতা, মেয়াদ পূর্ণ না হওয়াসহ নানা কারণে অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

নতুন করে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সে হিসাবে দেশে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৩টি। পাশাপাশি নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় দেশের উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।

নতুন উপজেলাগুলো হলো—বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভাগ করে মোকামতলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ভাগ করে মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভাগ করে রুহিয়া ও ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভাগ করে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা।

ইসি নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে কমিশন থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু জানানো হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ছাড়া নতুন করে আরও ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এমএইচএইচ/এআর