জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহারে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঢাকা লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনেস্কো উদ্যাগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি শুরু হয়।
তিন দিনের (১৫, ১৬ ও ১৮ জুন) অনুষ্ঠিতব্য এই প্রশিক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি ক্রয় পেশাজীবী এবং আইসিটি ফোকাল পয়েন্টরা অংশ নিয়েছেন।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন বিশ্বজুড়ে সরকারের জনপ্রশাসন, পরিষেবা প্রদান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে ক্রমবর্ধমানভাবে অনুসন্ধান চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, প্রশিক্ষণে সবপক্ষকে একত্রিত করা হয়েছে, যাতে এআই সিস্টেম, নৈতিক সুরক্ষা এবং শাসনব্যবস্থার কাঠামো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা তৈরি করা যায়।
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর ‘রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট মেথডোলজি (র্যাম)’ প্রক্রিয়ায় নিরাপদ ও কার্যকর এআই গ্রহণের জন্য নীতিনির্ধারক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নকে একটি মূল প্রয়োজনীয়তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইউনেস্কো ঢাকার হেড অফ সায়ন্স খালিদ বিন মাসুদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর সরকারগুলোর জন্য কোনো ভবিষ্যৎ বিষয় নয়। এটি ইতোমধ্যেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিষেবা ডিজাইন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নাগরিকদের সাথে সম্পৃক্ততার পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে।
তাই এআই-কে নৈতিক, স্বচ্ছ এবং জনস্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ উপায়ে গ্রহণ করা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এআই সাক্ষরতা তৈরি করা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে, ইউনেস্কো দায়িত্বশীল এআই শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। এই প্রশিক্ষণটি সেইসব সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহায়তা করছে যারা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং পরিষেবা প্রদানে এআই-এর বাস্তব প্রয়োগ অন্বেষণ করছে।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস.এম. মঈন উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রাপথে এই এআই সাক্ষরতা ও নৈতিকতা প্রশিক্ষণটি সময়োপযোগী এবং প্রাসঙ্গিক। আমরা সক্রিয়ভাবে আমাদের কর্মসূচিগুলোতে এআই অন্তর্ভুক্ত করছি এবং আমাদের অনেক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই ডিজিটাল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছি, যা হলো ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং সরকারি পরিষেবা প্রদান উন্নত করতে এআই-কে কাজে লাগানো।
বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা এআই সিস্টেম সম্পর্কে তাদের বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করবেন, সরকারি পরিষেবায় এআই ব্যবহারের সুযোগ অন্বেষণ করবেন, নৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতাগুলো খতিয়ে দেখবেন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য বাস্তবসম্মত পন্থা শিখবেন।
ইউনেস্কোর ‘এআই এথিকস এক্সপার্টস উইদাউট বর্ডারস’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে ইউনেস্কো রিজিওনাল অফিস ফর সাউথ এশিয়া, ইউএনডিপি শ্রীলঙ্কার চিত্রা সোশ্যাল ইনোভেশন ল্যাব, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।
প্রশিক্ষণটি ‘ইউনেস্কো রিকমেন্ডেশন অন দ্য এথিকস অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বাস্তবায়নে এবং বৈশ্বিক সেরা অনুশীলনগুলোকে জাতীয় শাসনতান্ত্রিক অগ্রাধিকারের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ইউনেস্কোর বৃহত্তর সহায়তার একটি অংশ।
এএম/এএইচ