images

জাতীয়

যানজট কমাতে রাজধানীর চার বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৫ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

মহাখালীসহ রাজধানীর চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল হলো—ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছে স্থানান্তর করা হবে।

গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, এআই ক্যামেরা স্থাপনসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ট্রাফিক সিগন্যালিং ও এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফল পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকা শহরের টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাস ডিপোর জন্য অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে বাসগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে না থেকে শুধু যাত্রী নেওয়ার সময় টার্মিনালে আসবে। একইভাবে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান নিয়েও কাজ চলছে। এছাড়া আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মহাখালী এলাকায় রাস্তার ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করতে প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে বাস ডিপো স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করবে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং গুলিস্তান থেকে টার্মিনাল সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সাত দিনের আলটিমেটাম

দীর্ঘদিন ধরে জনগণের দুর্ভোগের কারণ হওয়া বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ড. হাদিউজ্জামান বলেন, বিআরটি প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে এবং জনগণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এখন এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে তা নেতিবাচক উদাহরণ হবে। তাই প্রকল্পটিকে কীভাবে উন্নত করে গণপরিবহন করিডর হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিকল্প প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

হকারদের উচ্ছেদ নয়, সুশৃঙ্খল বিকল্প কর্মসংস্থান

যানজট নিরসনে ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের কীভাবে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ড. হাদিউজ্জামান ও ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খল অবস্থা আর বরদাশত করা হবে না।

বিইউ/এআর