images

জাতীয়

জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

‎জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

সিআইডির ধারনা, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশে করা হয়েছিল।

‎রোববার (১৪ জুন) উত্তর বাড্ডায় রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডারস’ এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

‎গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাঞ্জুর প্রধানিয়া, মো. ওসমান গনি ও কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি।

‎সিআইডির পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডারস নামক প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছিল।

‎এ বিষয়ে জর্ডানে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস, জর্ডানের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।

‎তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডারস মূলত একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।

‎সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিনামা (নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে), দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানে এবং অবশিষ্ট পাসপোর্টগুলো সৌদি আরবে গমনেচ্ছুক ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

‎অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

‎একেএস/এএইচ