images

জাতীয়

দেশজুড়ে একযোগে শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৮ জুন থেকে দেশের ৬৪ জেলা ও ৭৪টি প্রত্যন্ত এবং বিশেষায়িত উপজেলায় একযোগে শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’ এর উদ্বোধনী আয়োজন। তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্রোহী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

রোববার (১৪ জুন) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে দেশের সব জেলা ও নির্ধারিত উপজেলায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বাংলা সাহিত্য নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম প্রেরণার উৎস। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তার অবদান ও জীবনদর্শনকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হয়নি। বর্তমান সরকার নজরুলের সাম্য, মানবতা, ন্যায়বিচার ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম, দর্শন, সাংবাদিকতা ও সংগীত নিয়ে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নজরুলচর্চা সম্প্রসারণে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও নজরুলের ভাবধারা তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সাম্যের দর্শন তুলে ধরা হবে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে তার সাহসী উচ্চারণ বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। তাই ‘নজরুল বর্ষ’কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সফল করে তুলতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি এ কর্মসূচি সফল করতে দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বছরব্যাপী উদযাপন তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন, নজরুল বর্ষের অফিসিয়াল লোগো ও পোস্টার প্রকাশ, স্মারক ক্যালেন্ডার ও ডাকটিকিট প্রকাশ এবং কবির সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে গবেষণা ও ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ।

এএইচ/এফএ