জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে যোগ্য, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নূরনবী মানিক।
সংবাদ সম্মেলনে নূরনবী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন বক্তব্য ও পদক্ষেপ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে অনেক গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নূরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আস্থা, রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের সঙ্গে ব্যাংকটির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
তার দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছিল। আমানত বৃদ্ধি ও গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের মধ্যেই চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ঘটনায় আবারও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে জোরপূর্বক মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে নূরনবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আরডিএসের বিনিয়োগ ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে ২২ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আরডিএস প্রকল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৩২ কোটি টাকা এবং ঋণ আদায়ের হার ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছে বলেও দাবি করা হয়।
ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু একটি ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো ব্যাংকিং খাত, রেমিট্যান্স প্রবাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ, ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টা বন্ধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ বন্ধ করা এবং ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ১৪ জুন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের শতাধিক সদস্য ও গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।
টিএই/ক.ম