images

জাতীয়

গিটার-পিয়ানো ও সিনেমা ক্যামেরা আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

দেশের সম্ভাবনাময় তরুণদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাদ্যযন্ত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাণ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টে বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈশ্বিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং উচ্চমানের কন্টেন্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাণ সামগ্রী যেন তরুণদের নাগালের মধ্যে থাকে, সেজন্য বাজেটে কতিপয় পণ্যে শুল্ক কর কমানোর প্রস্তাব করছি।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মিডিয়ায় ব্যবহৃত সঙ্গীতের মানোন্নয়ন ও ক্রিয়েটিভ মিউজিক তৈরিতে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট যেমন: গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি এবং এদের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছি। এ ছাড়াও, চলচ্চিত্র ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার কারিগরি দিক আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

অন্যদিকে  স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ও প্রতিরক্ষণের লক্ষ্যে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক ওভেন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রস্তুতকারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ফ্লোট গ্লাস আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী। 

এ ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার, অটো ট্যাঙ্ক এবং ভাল্ব ও বাঙ্গ উৎপাদনকারী শিল্পের উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি ও শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাবও করেছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপি’র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।  

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছ এবং পরিচালন ব্যয় চলতি অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এমএইচএইচ/এফএ