নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় দেশি বা বিদেশি যেকোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হলে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা কমিশন পাবেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের (ডায়াসপোরা) নেটওয়ার্ক ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে নারী আসনে সংসদ সদস্য বেগম জহরত আদিব চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি বা কোনো বিদেশি নাগরিক দেশে বিনিয়োগ নিয়ে এলে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী স্বৈরাচারি আমলের ভুল নীতি এবং দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব বা ‘স্পিল ওভার ইফেক্ট’ বর্তমান অর্থনীতিকে বহন করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার সেসব সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে তাদের অর্জিত লভ্যাংশ বা প্রফিট সহজে নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ইতোমধ্যে সেই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের মাঝে আস্থা ফিরে আসবে এবং দেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত এগিয়ে যাবে।’
দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের চাঙ্গা করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সংসদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং অতিরিক্ত তারল্য সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢালাওভাবে সুদের হার কমালেই যে সবসময় অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়, বিষয়টি তেমন নয়। তবে সরকার পুরো অর্থনৈতিক সমীকরণ এবং সুদের হারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। যদি দেখা যায় যে সুদের হার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কমালে দেশীয় ব্যবসায়ী এবং দেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে উপকৃত হবে, তবে সরকার অবশ্যই সে বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে এই বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত বা কনফার্ম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারের বর্তমান একটি বড় পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান আরও জানান, দেশের যেসব প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ী বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ব্যবসায়িক মন্দা বা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ফান্ড বা তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের আওতায় যোগ্য ও ঋণখেলাপিহীন প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাত্র ৯ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্যদের পুরনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী ও হালনাগাদ পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আরও জানান, সরকার ডিরেগুলেশন বা পদ্ধতিগত জটিলতা সহজীকরণের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের সমভাবে উৎসাহিত করতে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছে।
এমএইচএইচ/এএইচ