নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জুলাই ২০২২, ০৪:৪৫ পিএম
এক সময় পুলিশে চাকরি করতেন হুমায়ুন কবির। সেই চাকরি হারিয়ে তিনি এখন বনে গেছেন জাল টাকার কারবারি। কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বে এবং ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তৈরিকৃত জাল টাকা চলে যেত ব্যাংকেও।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র রাজধানীতে জাল টাকার কারবার করে আসছিল। এই চক্রটির মূলহোতা মো. হুমায়ুন কবির (৪৮)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদিসহ চক্রের মূলহোতা মো. হুমায়ুন কবিরকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে। বুধবার রাতে মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ১৬ লাখ জাল টাকা, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি লেমিনেশন মেশিন, একটি পেস্টিং গামের কৌটা, তিনটি টাকা তৈরির ডাইস, দুই বান্ডেল ফয়েল পেপার, দুই প্যাকেট টাকা তৈরির কাগজ ও দুইটি মোবাইল জব্দ করা হয়।
ডিবির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, এই চক্রটি ব্যাংকে টাকা জমা দিতেন অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে। মূলত ঈদ ও অন্যান্য উৎসব কেন্দ্রীক ব্যাংকে যখন অতিরিক্ত ভিড় হতো সে সময় ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মূলত জাল টাকাগুলো ব্যাংকে জমা দিতেন।
তিনি বলেন, আমরা তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞেস করি, এই জাল টাকাগুলো কোথায় কোথায় দেন। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী এলাকায় চক্রের এজন্টদের কাছে জাল টাকাগুলো সাপ্লাই করতেন। আবার ব্যাংকে যখন প্রচুর ভিড় হতো তখন ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জাল টাকা ব্যাংকে জমা দিতেন।
গ্রেফতার হুমায়ুন কবির এক সময় পুলিশে চাকরি করতেন। এই অবৈধ কাজে তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছেন কি না জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন, কোনো এক সময় তিনি পুলিশের চাকরি করতেন। এখন তিনি জাল টাকা তৈরি করছেন। তাই বলে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ছাড় দিচ্ছে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অবৈধভাবে কেউ বড়লোক হতে চাইলে তাকেও আমরা আইনের আওতায় আনবো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, তারা জাল টাকা পাচারও করতেন। তাদের এই পাচারের সত্যতা আছে কি না সেটিও আমরা যাচাই-বাছাই করছি বলেও উল্লেখ করেন গোয়েন্দা প্রধান।
তিনি বলেন, তারা মূলত ঈদকে টার্গেট করে এই জাল টাকা তৈরি করে থাকে। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি আসন্ন পূজাকে কেন্দ্র করে মাসে ৬০ লাখ টাকা রোলিং করার টার্গেটে এখন থেকেই তারা কাজ শুরু করেছে।
গ্রেফতার হুমায়ুন কবির মোহাম্মদপুরে ভাড়া নেওয়া বাসায় জাল টাকা বানানোর কারখানা হিসেবে ব্যবহার করে জাল টাকা তৈরি করে আসছিল। তার অন্যান্য সহযোগী পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- ইমাম হোসেন (৩০), মো. আলাউদ্দিন (৩৫), মো. সাইফুল (৩০), মো. মজিবর (৩২) ও আলাউদ্দিন (৪২)। তারা পরস্পরের যোগসাজসে জাল টাকা তৈরি এবং বিপণন করে আসছিল। গ্রেফতার আসামির পিসিপিআর যাচাই করে জানা যায় তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও চারটি জাল টাকার মামলা রয়েছে।
এ দিকে যারা ব্যাংকে টাকা লেনদেন করেন তারা ভালো করে টাকা যাচাই-বাছাই করে লেনদেন করেন সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে বলেছে ডিবি পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কাজী শফিকুল আলমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আছমা আরা জাহান তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. কায়সার রিজভী কোরায়েশীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয় বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
কারই/ একেবি