images

জাতীয়

গ্রাহকের অজান্তে ১৭ লাখের লেনদেন, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

গ্রাহকের অজান্তেই ক্রেডিট কার্ড উত্তোলন করে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। এমন ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

‎মঙ্গলবার (৯ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানায়।

‎সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃত সারোয়ার হোসেন ২০১৭ সালে একটি স্বনামধন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার, কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং পদে কর্মরত ছিলেন। সেসময় একজন গ্রাহক তার নামে একটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন না হওয়ায় গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন ক্রেডিট কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।

সারোয়ার হোসেন ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন, যাতে সকল ওটিপি তার কাছে পৌঁছে। পরবর্তীতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।

‎সিআইডি জানায়,সম্প্রতি ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো রিপোর্ট (সিআইবি) এর এক প্রতিবেদন থেকে জানতে পারেন তার নামে ২০১৭ সালে ইস্যুকৃত হতে ঋণ গ্রহণ আছে এবং উক্ত ঋণের সম্পর্কে অবগত না এবং তিনি কোন প্রকার ঋণও গ্রহণ করেন নাই। ভুক্তভোগী গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ জানালে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচরে আসে। পরবর্তীতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটিত হলে ব্যাংক টির পক্ষ হতে এ সংক্রান্তে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করে।

‎মামলাটির তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ২০১৭ সালের শেষ হতে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭ লক্ষ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়। পরবর্তীতে মোট লেনদেনের বিপরীতে ১৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট লভ্যাংশসহ ৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।

সিআইডি আরও জানায়, তাকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত এরকম আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে জালিয়াতি পূর্বক অর্থ আত্মসাৎ করেছে কি না সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে কার্যক্রম অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।

‎একেএস/এমআই