নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা ও পরিকল্পনা হালনাগাদ করার পাশাপাশি নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রশিক্ষিত জনবল গঠন এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সংরক্ষিত নারী আসন-১০ এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি’র প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সামগ্রিক ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, টর্নেডো, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার ইতিমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এবং স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার বা এসওডি প্রণয়ন করেছে। বর্তমান সরকার এই দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিদ্যমান পরিকল্পনাগুলোকে আরও সময়োপযোগী ও হালনাগাদ করতে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে এসওডি সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত জনবল গঠন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
আরও পড়ুন: ‘যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যপ্রাচ্যসহ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে খাদ্যপণ্য রফতানি হচ্ছে’
এদিকে বজ্রপাতে প্রাণহানির বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসন-২ এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার করা প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় প্রাণহানি কমানোর বিষয়ে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদফতর এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স বা আইভিআর প্রযুক্তির সাহায্যে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও বিশেষ মহড়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কৃষক ছাউনি-কাম বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এমএইচএইচ/এআর