জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৭ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
বিআরটিসি বাস ইজারা দেওয়ার প্রথা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। রোববার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ড. কামরান উল বাছেত, আব্দুল্লাহ মো. ফেরদৌস খান ও নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বিআরটিসি রাষ্ট্রীয় পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান। জনসাধারণকে পরিবহন সেবা প্রদানের জন্য জনগণের করের টাকায় এই প্রতিষ্ঠানের বাস কেনা হয়। এসব বাসের কাঠামো এবং সাশ্রয়ী ভাড়া যাত্রীবান্ধব। কিন্তু বিআরটিসি জনসাধারণকে প্রত্যাশিত পরিবহন সেবা প্রদান না করে বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী বাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইজারা প্রদান করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। এই ইজারা দেওয়া বাসগুলো সকালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বা স্টাফদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সারাদিন অলস পড়ে থেকে বিকেলে আবার গন্তব্যে ফেরে। অর্থাৎ বাসগুলো সারাদিন অব্যবহৃত থাকে। অথচ রাজধানীর সড়কে অগণিত নারী, শিশু, বয়স্ক এবং কর্মজীবী মানুষ বেসরকারি জরাজীর্ণ বাসে অবর্ণনীয় কষ্ট করে যাতায়াত করছেন। এভাবেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত যাত্রীসাধারণ বিআরটিসির পরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিআরটিসির বাস এভাবে ইজারা দেওয়ার আইনগত ভিত্তি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এটা পাবলিক প্রোপার্টি। লোকসান বন্ধ করার পদ্ধতি অবলম্বন করে যাত্রীসেবা পরিচালনা করতে হবে। লোকসানের অজুহাতে ইজারা দিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনের তাগিদে ইজারা নেয়, সেসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি বাস ইজারা নিতে পারে বা নিজস্ব অর্থায়নে কিংবা সরকারি ঋণে বাস ক্রয় করতে পারে।
নেতারা আরও বলেন, বিআরটিসির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেসরকারি বাস মালিকদের স্বার্থে নিজেদের পরিবহন সেবা সংকুচিত করতে অল্প সংখ্যক বাস যাত্রীসেবায় পরিচালনা করেন। অধিকাংশ বাস ইজারা দেন এবং অসংখ্য বাস ইকোনোমিক লাইফ শেষ হওয়ার আগেই কৌশলে অচল করে ডাম্পিং করেন। ভাঙারি বা স্ক্র্যাপ হিসেবেও বিক্রি করেন।
বিবৃতিতে ফাউন্ডেশনের নেতারা বলেন, বিপুল টাকায় কেনা ভলভো আর্টিকুলেটেড বাস, ভলভো এসি/ননএসি বাস- যেগুলোর ইকোনোমিক লাইফ এখনো শেষ হয়নি; রাজধানীর সড়কে সেসব বাসের হদিস নেই। বিআরটিসিতে কোনো স্বচ্ছতা নেই, জবাবদিহিতা নেই। কয়েক বছর পরপর নতুন বাস ক্রয় করে এবং কিছুদিন চলার পর সড়ক থেকে বাসগুলো উধাও হয়ে যায়। এসব বাসের খোঁজ নিতে হবে।
ফাউন্ডেশনের নেতারা মনে করেন, সরকার যদি বিআরটিসির মাধ্যমে পরিবহন সক্ষমতা অর্জন করতে পারত, তাহলে বেসরকারি বাস মালিকরা ভাড়া নৈরাজ্য এবং সড়কে অব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পারতেন না।
তাদের অভিযোগ, বিআরটিসির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেসরকারি বাস মালিকদের নৈরাজ্য সৃষ্টির এই কাজে সহযোগিতা করেন। এ কারণেই বিআরটিসি জনসাধারণকে প্রত্যাশিত পরিবহন সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ঈদের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বিআরটিসির যাত্রীসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির যাত্রীসাধারণ আর্থিক এবং শারীরিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই বিআরটিসিকে জবাবদিহিতার অধীনে আনা জরুরি।
নেতারা আরও বলেন, আমরা বিআরটিসি বাসের ইজারা প্রথা বাতিল চাই। একইসঙ্গে, কতগুলো বাস কেনা হয়েছে, কতগুলো সড়কে যাত্রীসেবা দিচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী কতগুলো বাস মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে ডাম্পিংয়ে আছে, লোকসানের প্রকৃত কারণ কি? এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করতে বিচারপতি, অর্থনীতিবিদ এবং গণপরিবহন বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানাই এবং দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি প্রত্যাশা করছি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
এএম/এফএ