images

জাতীয়

১৫ জুনের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের আইন-বিধির খসড়া প্রকাশ করবে ইসি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

০৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি, ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা বাতিলসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সকল অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত নিয়ে খসড়া প্রকাশ করবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২ জুন) নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আইন-বিধি সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা আগামী ১৫ জুনের মধ্যে অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত গ্রহণে খসড়া প্রকাশ করা হবে। আর জুনের মধ্যেই আইন-বিধির সকল কার্যক্রম শেষ করা হবে।’

স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইন বা বিধিতে যেসব যোগ্যতা-অযোগ্যতা আছে সেগুলো বিবেচ্য হবে। প্রত্যেক যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিক প্রার্থী হতে পারবেন। তিনি কোন দলের সেটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না আমাদের কাছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলগতভাবে হবে না। নির্দলীয় হবে। যোগ্যতা সম্পূর্ণ সকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।’ 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ থাকবে। আইনে যে বিধিনিষেধ রয়েছে সেগুলো সাপেক্ষে সকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করব আমরা।

এদিকে আইন-বিধি সংশোধনে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  বৈঠক সূত্র জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনের মধ্যে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা আচরণ বিধিমালা পরিবর্তে একটি মাত্র আচরণ বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তাও তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন হবে সেজন্য ভোটার সমর্থন হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের যে বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে প্রার্থীর জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানো আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, বিলবোর্ডে প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারসহ নানা বিষয়ে বিধিনিষেধ যুক্ত করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের আইন-বিধান সংস্কার করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি এবং আগামী বছরে আরও ৩৪৯টি। এছাড়া বর্তমানে ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে সরকার বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার অনুমোদন দেওয়ায় দেশে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা ১৩টিতে উন্নীত হবে। একই সঙ্গে নতুন পাঁচটি উপজেলা অনুমোদন করায় উপজেলার সংখ্যা বেড়ে ৫০০ হবে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী হলেও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলো প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এমএইচএইচ/এমআর