জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০২ জুন ২০২৬, ১১:২১ পিএম
রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের সাত দিন পর নূরজাহান বেগমের সন্তানদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সঠিক বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পোস্টে তিনি জানান, নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্মসচিব। বর্তমানে তিনি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে কর্মরত রয়েছেন।
জানা গেছে, ড. আনিসুর রহমান শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

উভয় পরীক্ষাতেই তিনি প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
আরও পড়ুন: ‘আসুন, সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই’
সরকারি চাকরিজীবনে তিনি পরিকল্পনা কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই স্কুল অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট থেকে এমপিপি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ‘সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের উপ-পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
নূরজাহান বেগমের দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান দেশের একজন খ্যাতিমান প্রকৌশলী ও শিক্ষক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি হিসেবেও যুক্ত আছেন।
আরও পড়ুন: ইসলাম যেভাবে বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে থাকতে শেখায়
ড. আশিকুর রহমান ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৩২তম ব্যাচের প্রাক্তন ক্যাডেট। তিনি ১৯৮৯ সালে এসএসসি এবং ১৯৯১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালে বুয়েট থেকে সিএসই বিষয়ে বিএসসি এবং ২০০১ সালে এমএসসি সম্পন্ন করার পর কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে কম্পিউটিং সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

এই পরিবারে আরও রয়েছেন এক কন্যা ও আরেক পুত্র। নূরজাহান বেগমের একমাত্র কন্যা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা মিরপুরের ইম্পেরিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে ছোট ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, রাজধানীর একটি ফ্ল্যাটে নূরজাহান বেগমের মরদেহ দীর্ঘ সাত দিন পড়ে থাকার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং অনেকেই এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিইউ