নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ঢাকার যানজট নিরসনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এআই প্রয়োগ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার সুফল ইতিমধ্যে জনগণ পেতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ প্রযুক্তি উন্নয়ন করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাতের বেলায়ও চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হওয়ার কারণে জনসচেতনতা বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা জানতে চান, সরকার যখন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তখন রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করলে যানজট নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব হবে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে রাতারাতি হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তায় নেমে গেছে। বেকারত্ব ও মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের রাতারাতি উচ্ছেদ করা কঠিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এসব যান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে জড়িত। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের বেকার করে দিলে নতুন সমস্যা তৈরি হবে। সে কারণে সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে মহানগর এলাকার বাইরে স্থানান্তর ও চালকদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যাতে বেকারত্ব না বাড়ে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থারও উন্নতি হয়।
ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে পাঠানোর চিন্তাভাবনা চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতে নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি হবে না, বরং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু হত্যার ঘটনায় বিচারকাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই বিচারকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের আসন্ন বৈঠক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
এআর