জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
রাজধানীতে নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ঢেকে মোটরসাইকেল চালানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তবে নম্বর প্লেটের একটি অংশ দৃশ্যমান থাকায় মোটরসাইকেল ও চালককে চিহ্নিত করতে বেশ বেগ পেতে হয়। শেষ পর্যন্ত ১২ দিনের তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ওই যুবকের পরিচয় বের করে।
কীভাবে তাকে খুঁজে বের করা হয়েছে, সে বিষয়ে আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রাকিব আহমেদ।
সিটিটিসির এসপি রাকিব আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে। কিন্তু যারা ফেসবুকে ছবিটি ছড়িয়েছেন, তারা সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি। ফলে সিসিটিভি ক্যামেরার সহায়তা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তখন ধারণার ভিত্তিতে ঘটনাস্থল খোঁজার চেষ্টা করা হয়। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্থানটি তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকার বিজি প্রেসের সামনে। এরপর ওই এলাকার বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তুলে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ঘটনাটি সেখানেই ঘটেছে।
তিনি বলেন, মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ঢেকে রাখা হয়েছিল। তাই সম্ভাব্য সব নম্বর ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় ৯৯৯টি মোটরসাইকেল যাচাই করা হয়েছে। অনেক মোটরসাইকেল ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ায় সেগুলোর মালিকদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। আবার কিছু মোটরসাইকেল ঢাকায় চলাচল করছে কি না, সেটিও যাচাই করা হয়।
ধাপে ধাপে যাচাই শেষে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০টিতে নামিয়ে আনা হয়। এরপর প্রতিটি মালিকের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করে পুলিশ। তাঁদের কাছে নম্বর প্লেটের ছবি চাওয়া হয়। কেউ ছবি পাঠিয়েছেন, আবার কেউ জানতে চেয়েছেন কেন ছবি প্রয়োজন। এমনও হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সার্জেন্টকে বাসায় গিয়ে নম্বর প্লেটের ছবি সংগ্রহ করতে হয়েছে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়। তার নাম লাভলু শেখ (৩৮)। তার বাড়ি রাজধানীর লালবাগ এলাকায়। তিনি তেজগাঁওয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। গত ১৯ মে জরুরি কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরে পুলিশ জানতে চায়, তিনি কেন এমন কাজ করেছিলেন।
জবাবে লাভলু শেখ জানান, তিনি তেজগাঁও এলাকায় কাজ করেন। সেদিন জরুরি কাজে বের হলেও তার ও সঙ্গীদের কারও হেলমেট ছিল না। এআইভিত্তিক মামলা এড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি নম্বর প্লেটের শেষ তিনটি সংখ্যা ঢেকে দেন। নিজের ও বন্ধুর প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছিলেন বলে স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন।
এমআইকে/এআর