images

জাতীয়

‘সরকার ও ডিএনসিসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই মেট্রোরেল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

সরকার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেট্রোরেলের সবুজায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, উত্তরা মেট্রোরেল এলাকার গাছপালা ও পরিবেশ নিয়ে যেসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তার অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সোমবার (১ জুন) কোরবানির পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শেষে তেজগাঁও পলিটেকনিক খেলার মাঠ ও তৎসংলগ্ন সড়ক ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, কোরবানির পশুর হাটের কারণে উত্তরা মেট্রোরেল এলাকার কিছু গাছপালা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে নতুন করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সেই এলাকা পুনরায় সবুজায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে আগের তুলনায় আরও সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার ও ডিএনসিসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস্তব চিত্র দেখতে সাংবাদিকদের সরেজমিনে মেট্রোরেল এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কাছে সঠিক ও সত্য তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোরবানির পর মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ও পরিবেশবান্ধব কাজের চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ‘ক্লিন ও গ্রীন ঢাকা’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তেজগাঁও পলিটেকনিক খেলার মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

কোরবানি-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের পর ৭২ ঘণ্টার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ডিএনসিসির ইজারাকৃত পশুর হাটগুলো থেকে বর্জ্য ও বাঁশের ফ্রেম অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। বিভিন্ন হাট পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অনেক হাটের বর্জ্য ও কাঠামো ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে এবং বাকি স্থানগুলোতেও কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান নগর উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, নগরবাসী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় কোরবানি-পরবর্তী সময়ে রাজধানীর অলিগলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিনের গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমও নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, পশুর হাটের ইজারাদাররা বর্জ্য ও বাঁশের ফ্রেম অপসারণের কাজ করছেন এবং তিনি নিজে বিভিন্ন হাট পরিদর্শন করে এর প্রমাণ পেয়েছেন। এরপরও যদি কোনো ইজারাদার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেন, তাহলে তাদের জামানত থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএইচ/এআর